প্রেমে পড়ার চরম সাজা! গর্ভবতী মেয়েকে চম্বল নদীতে ডুবিয়ে খুন খোদ বাবার, ভিডিও বানাল পাষণ্ড!

উত্তরপ্রদেশের আগ্রা জেলায় অনার কিলিং বা মানসম্মানের নামে খুনখারাবির নৃশংস ধারা অব্যাহত রয়েছে। শহরটিতে মাত্র দুদিনের ব্যবধানে আরও একটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যা পুরো দেশকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগ্রার বাসৌনি এলাকায় এক পাষণ্ড পিতা তার নিজের ১৮ বছর বয়সী গর্ভবতী মেয়েকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় চম্বল নদীতে ডুবিয়ে হত্যা করেছে। শুধু তাই নয়, নিজ কন্যার এই পৈশাচিক মৃত্যুর ভয়াবহ সেই মুহূর্তের ভিডিও ক্যামেরায় রেকর্ডও করে রেখেছে অভিযুক্ত বাবা। এর ঠিক আগেই জৈতপুর এলাকায় প্রেম করে বিয়ে করার অপরাধে আরও এক ২২ বছরের তরুণীকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছিল, যা এই জঘন্য অপরাধের ধারাবাহিকতাকেই স্পষ্ট করে তোলে।

হত্যাকাণ্ডের এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটার পর চতুর অভিযুক্ত বাবা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় দিল্লি পালিয়ে যান এবং সেখানে স্থানীয় থানায় নিজের মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার একটি মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করেন। যাতে কারো বিন্দুমাত্র সন্দেহ না হয়, সেজন্য তিনি নিজেই পুলিশের কাছে নিখোঁজের ডায়েরি করেছিলেন। কিন্তু দিল্লি পুলিশের তীক্ষ্ণ তদন্ত এবং নখদর্পণে থাকা প্রমাণের ভিত্তিতে ধীরে ধীরে ওই বাবার ওপর পুলিশের প্রবল সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। এরপর পুলিশি জেরার মুখে পড়ে এবং তথ্যপ্রমাণের জালে ফেঁসে গিয়ে অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করে জেলের সিখাঁকে পাঠানো হয়। সবশেষ মঙ্গলবার অভিযুক্ত বাবাকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে বাসৌনি এলাকায় এসে পৌঁছায়। অপরাধের মূল রহস্য উদঘাটন করতে এবং নদীতে তলিয়ে যাওয়া মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের বিশেষ দল তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

পুলিশি তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত এই নিষ্ঠুর পিতার নাম লাখপত সিং। তিনি মূলত বাসৌনি এলাকার লাখানপুরা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও বর্তমানে সপরিবারে দিল্লির তিগাড়ি এলাকায় বসবাস করতেন। অভিযোগ রয়েছে যে, গত ২৯ শে জুলাই তিনি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মেয়েকে শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে ওষুধ এনে দেওয়ার কথা বলে আগ্রার বাসৌনি এলাকায় নিয়ে আসেন। এরপর নির্জন চম্বল নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে তিনি নিজের গর্ভবতী মেয়েকে জলের তলায় চুবিয়ে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেন। এখানেই শেষ নয়, নিজের এই অপরাধের বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি পুরো ঘটনার ছবি ও ভিডিও নিজের মোবাইলে ধারণ করেছিলেন।

বাসৌনিতে নৃশংস খুন সেরে অভিযুক্ত ব্যক্তি পুনরায় দিল্লিতে ফিরে যান এবং নাটকীয়ভাবে পুলিশের কাছে গিয়ে তার মেয়ে নিখোঁজ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ জানান। কিন্তু পুলিশ যখন নিখোঁজ এই মামলার গভীরে প্রবেশ করে, তখন তদন্তের প্রতিটি ধাপে বাবার অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ ও বক্তব্যে পুলিশের সন্দেহ তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। এর ফলস্বরূপ, মঙ্গলবার পুলিশ অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে তার পৈতৃক গ্রাম লাখানপুরায় পৌঁছায় এবং ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। বাসৌনি থানা পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় কুখ্যাত চম্বল নদীর জলরাশির মধ্যে নিখোঁজ মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশি তল্লাশি এখনও অবিরাম জারি রয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে যে, নিহত ১৮ বছর বয়সী তরুণী খুশি পরিবারের অমতে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল। তরুণীর এই প্রেমের সম্পর্ক এবং তার গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেই গোটা পরিবার চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং আক্রোশের বশে পরিবার এই অনার কিলিংয়ের পথ বেছে নেয়। পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে নিজের রক্তকে এভাবে জলের তলায় ডুবিয়ে মারার এই ঘটনায় গোটা এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। বর্তমানে পুলিশি রিমান্ডে থাকা অভিযুক্ত বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নদী থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে এবং এই জঘন্য অপরাধের পেছনে আর কাদের হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ প্রশাসন।