এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে মারাত্মক ত্রুটি! উড়ানের মাঝেই একাধিক সিস্টেম ফেল, বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা?

এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানের পোস্ট-ফ্লাইট মেইনটেন্যান্স রিপোর্টে একাধিক জটিল ত্রুটির তথ্য সামনে আসায় বিমান মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ভিটি-ইএক্সও (VT-EXO) নামক বিমানটির, যার ফ্লাইট নম্বর এআইসি২৩৭৯ (AIC2379) এবং এটি ভিটিএসপি থেকে ভিআইডিপি (VTSP–VIDP) রুটে চলাচল করছিল। গত ৪ অগস্টের ওই মেইনটেন্যান্স বা রক্ষণাবেক্ষণ রিপোর্টে বিমানটির হাইড্রলিক সিস্টেম, অটোফ্লাইট মেকানিজম, এলিভেটর কন্ট্রোল এবং ইঞ্জিনসহ অত্যন্ত সংবেদনশীল বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সতর্কবার্তা এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কথা স্পষ্ট ভাষায় নথিভুক্ত করা হয়েছে।
রিপোর্টের বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, বিমানটির মূল হাইড্রলিক সিস্টেম অর্থাৎ এইচওয়াইডি জি (HYD G), এইচওয়াইডি বি+ওয়াই (HYD B+Y) এবং এইচওয়াইডি জি+বি (HYD G+B) সিস্টেমে লো প্রেশার বা নিম্ন চাপের সতর্কবার্তা রেকর্ড হয়েছে। পাশাপাশি, এইচওয়াইডি ওয়াই (HYD Y) এবং এইচওয়াইডি বি (HYD B) রিজার্ভারে লো লেভেলের উল্লেখ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, বিমানের অটোফ্লাইট ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এপি অফ (AP Off) সংক্রান্ত সতর্কবার্তাও একাধিকবার রেকর্ড করা হয়েছে। এমনকি ফ্লাইট কন্ট্রোলের ক্ষেত্রে বাম ও ডানদিকের এলিভেটর ফল্ট (Left & Right Elevator Fault) এবং বিমানের জরুরি বহির্গমন দরজা অর্থাৎ রাইট ফরোয়ার্ড ইমার্জেন্সি এক্সিট এবং রাইট আফট ইমার্জেন্সি এক্সিট সংক্রান্ত ত্রুটির সতর্কবার্তাও উঠে এসেছে।
হাইড্রলিক বা ফ্লাইট কন্ট্রোলের পাশাপাশি বিমানের ইঞ্জিন সংক্রান্ত অংশেও বড়সড় ত্রুটির ইঙ্গিত মিলেছে। রিপোর্টে ইঞ্জিন ১ এ.আইসিই (Engine 1 A.ICE) সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ রেকর্ড হয়েছে। ফেলিওর মেসেজেস (Failure Messages) অংশে এএফএস: এইচওয়াইডি জি ১১৫১জিএন এবং এএফএস: ইএলএসি২ ১এ (AFS: HYD G 1151GN and AFS: ELAC2 1A)-এর মতো ত্রুটি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো ইঞ্জিন সংক্রান্ত ফেলিওর মেসেজে ‘ENG1D-2454-UP NAI VLV – PRSOV1 HIGH PRESS’ কথাটি উল্লেখ থাকা, যা পরিষ্কারভাবে ইঞ্জিনের সংশ্লিষ্ট ভালভে উচ্চ চাপের মারাত্মক সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পোস্ট-ফ্লাইট মেইনটেন্যান্স রিপোর্টে এই ধরনের একাধিক গুরুতর ত্রুটি ও সতর্কবার্তা নথিভুক্ত হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও শুধুমাত্র এই লিখিত নথির ভিত্তিতে বিমানটি উড্ডয়নের সময় ঠিক কতটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল কিংবা ল্যান্ডিংয়ের পর পরবর্তী সময়ে কী ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামত করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর বিমান যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে জোরদার আলোচনা শুরু হয়েছে।