এবার FIR থেকে বাদ যাচ্ছে জাতপাতের পরিচয়, ঐতিহাসিক নির্দেশিকা যোগী সরকারের!

এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে উত্তরপ্রদেশ সরকার সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজ্যের জাতিভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে পুলিশ রেকর্ড এবং জনসমক্ষে জাতিভিত্তিক পরিচয়ের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

প্রধান সচিব দীপক কুমার এই মর্মে সমস্ত বিভাগকে নির্দেশিকা জারি করেছেন। এখন থেকে ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (FIR), গ্রেফতারি মেমো বা অন্যান্য পুলিশ নথিতে আর জাতপাতের পরিচয় উল্লেখ করা যাবে না। পরিবর্তে, পরিচয়ের জন্য শুধুমাত্র বাবা-মায়ের নাম ব্যবহার করা হবে। এই আদেশে আরও বলা হয়েছে যে, থানা, গাড়ি বা সাইনবোর্ডে জাতিগত প্রতীক, স্লোগান এবং পরিচয় অবিলম্বে মুছে ফেলতে হবে।

নির্দেশিকাতে আরও বলা হয়েছে, “যানবাহনের ওপর জাতিভিত্তিক স্লোগান এবং পরিচয় নিষিদ্ধ করতে সেন্ট্রাল মোটর ভেহিক্যাল রুলস (CMVR) সংশোধন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। রাজ্য জুড়ে সমস্ত আরটিও (RTO) এবং ট্র্যাফিক বিভাগকে এই নির্দেশনা কার্যকর করার জন্য এক অভিন্ন সার্কুলার জারি করা হবে, যাতে জাতিগত পরিচয়যুক্ত সাইনেজগুলো সরিয়ে ফেলা হয় এবং কঠোর জরিমানা আরোপ করা হয়, যা একটি প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে।”

আদেশে আরও বলা হয়েছে, “সোশ্যাল মিডিয়ায়, যেমন ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এবং হোয়াটসঅ্যাপে, যুবকদের লক্ষ্য করে বর্ণ-প্রথা বিরোধী প্রচারাভিযান এবং মিডিয়া সাক্ষরতার উপর জোর দেওয়া যেতে পারে।” এছাড়াও একটি পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা তৈরি করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে নাগরিকরা বিভিন্ন পোর্টাল এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বেনামে এই ধরনের লঙ্ঘন রিপোর্ট করতে পারবে। এই প্রক্রিয়াটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয় (MORTH), ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MeitY) এবং প্রেস কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার মতো সংস্থাগুলির সঙ্গে সহযোগিতায় কার্যকর করা হবে।

রাজ্য জুড়ে জাতিভিত্তিক সমাবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর উপর কঠোর নজর রাখতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো রকম লঙ্ঘন না ঘটে।

তবে, সরকার স্পষ্ট করেছে যে তপশিলি জাতি (SC) এবং তপশিলি উপজাতি (ST) (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে দায়ের করা মামলাগুলোতে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না, কারণ সেখানে জাতিগত পরিচয় একটি আইনি প্রয়োজন। হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে আদর্শ কার্যপ্রণালী (SOP) এবং পুলিশ ম্যানুয়ালেও প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।