“এনকাউন্টারের ভয়ে পালিয়েছি”- নিজেকে লুকিয়ে ভিডিয়ো বার্তা দিলেন আপ বিধায়ক

পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন পাঞ্জাব সানাউরের আম আদমি পার্টির বিধায়ক হরমিত সিং ধিলোঁ পাঠানমাজরা। ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর পালিয়ে যাওয়া এই বিধায়ক গোপন আস্তানা থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেন, পুলিশ তাকে ‘ফেক এনকাউন্টার’ করার চেষ্টা করেছে।
এনকাউন্টারের ভয়ে পালিয়েছেন আপ বিধায়ক?
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে হরমিত বলেন, “সূত্র মারফত আমি জানতে পারি, পুলিশ আমাকে এনকাউন্টার করতে পারে। তাই, তাদের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে গিয়ে একটি সুরক্ষিত জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি। আমি কখনওই পুলিশের সাথে লড়তে যাইনি। ওরা যখন আমার গাড়িতে গুলি চালানোর চেষ্টা করে, আমি অন্য পথে পালাই। ঈশ্বরের আশীর্বাদে আমি বেঁচে গিয়েছি।” তিনি আরও দাবি করেন, প্রায় ৪০০-৫০০ পুলিশকর্মী, ৮-১০ জন পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট এবং একাধিক ডেপুটি এসপি তাকে গ্যাংস্টার প্রমাণ করার জন্য প্রস্তুত ছিল।
কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত?
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার। ২০২২ সালে পাতিয়ালার জিরাকপুরের এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগে বিধায়ক হরমিতকে গ্রেপ্তার করতে হরিয়ানার কারনালের ডাবরি গ্রামে তার আত্মীয়ের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। কিন্তু পুলিশ গ্রামে ঢুকতেই ইটবৃষ্টি শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, হরমিতকে পালাতে সাহায্য করার জন্য গুলিও ছোড়া হয়। সেই সুযোগে একটি SUV করে পালিয়ে যান বিধায়ক। সংঘর্ষে একজন পুলিশকর্মী আহত হন।
কারা ছিলেন ওই বিধায়কের শিকার?
অভিযোগকারী ওই ৪৩ বছর বয়সী মহিলা একজন ডিভোর্সি এবং তার মেয়ে বিদেশে থাকে। পুলিশের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, বিধায়ক হরমিত তার সাথে সম্পর্ক তৈরি করেন এবং তাকে বিয়ে করতে চান। কিন্তু তিনি বিধায়ক যে বিবাহিত, সেই সত্যটি গোপন করেন। একই সঙ্গে, ওই মহিলা হরমিতের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, হুমকি এবং অশালীন মেসেজ পাঠানোর অভিযোগও করেন। ওই মহিলা আরও দাবি করেন যে, ২০২১ সালে তারা দুজন লুধিয়ানার একটি গুরুদ্বারে বিয়ে করেছিলেন।
২০২২ সালে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় হরমিত স্ত্রীর নামের জায়গায় প্রথম স্ত্রীর নাম উল্লেখ করেন। এরপরই ওই মহিলার সঙ্গে তার সম্পর্কে ফাটল ধরে। যদিও হরমিত শুরু থেকেই এই সমস্ত অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।