এখন চোখের নিমিষেই সরকারি ফাইল ক্লিয়ার! দিল্লির ই-অফিসের ১ বছরে কী কী বদলালো?

দিল্লি সরকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ডিজিটাল যুগ। ই-অফিস ব্যবস্থা বাস্তবায়নের এক বছর পূর্তিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানালেন এক বড় সাফল্যের কথা। তাঁর দাবি, এই ডিজিটাল উদ্যোগের ফলে সরকারি কাজের গতি বেড়েছে কয়েক গুণ এবং ফাইল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া হয়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক।
এক নজরে ১ বছরের সাফল্য: ১ জুলাই, ২০২৫-এ দিল্লি সরকারের সমস্ত দপ্তরে ই-অফিস ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। বর্তমানে এর সুফল স্পষ্ট:
ব্যাপক ডিজিটাল রূপান্তর: গত এক বছরে ১.৪ লক্ষেরও বেশি ই-ফাইল এবং ৯.২ লক্ষ ই-রসিদ সফলভাবে অনলাইনে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে।
সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা: ৮ মার্চ, ২০২৫ তারিখে যেখানে মাত্র ৫,০০৫ জন সরকারি কর্মী এই ব্যবস্থার সাথে যুক্ত ছিলেন, আজ সেখানে ১৫,৭৪৮ জন সক্রিয়ভাবে ই-অফিস ব্যবহার করছেন।
সব স্তরে বিস্তার: বর্তমানে ২৩৫টি সরকারি বিভাগ, বোর্ড, কর্পোরেশন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই ডিজিটাল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত।
কেন এই ই-অফিস সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানান, এই ব্যবস্থার ফলে ফাইল এখন আর টেবিলে টেবিলে আটকে থাকে না। কোনো ফাইল ঠিক কার কাছে পড়ে আছে এবং তাতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা অনলাইনে সহজেই ট্র্যাক করা সম্ভব। এর ফলে: ১. অযথা প্রশাসনিক বিলম্ব কমেছে। ২. সরকারি কাজের স্বচ্ছতা বেড়েছে। ৩. বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দিল্লি সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে সাধারণ মানুষকে সরকারি পরিষেবার জন্য আর অপেক্ষা করতে হবে না।” তিনি আরও জানান, এই ব্যবস্থার জনপ্রিয়তা ও সাফল্য দেখে ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে যাতে দিল্লির সুশাসন ব্যবস্থা দেশজুড়ে উদাহরণ হয়ে ওঠে।
কাগজের ফাইল থেকে ডিজিটাল ফাইলের এই উত্তরণ দিল্লির আমলাতন্ত্রে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ নাগরিকের দোরগোড়ায় দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।