এক রাতের ধ্বংসলীলা! সাড়ে তিন হাজার পপেয়া গাছ কেটে সাবাড় করল দুষ্কৃতীরা, মাথায় হাত কৃষকের

রাজস্থানের ঝালাওয়াড়ে এক মর্মান্তিক ঘটনায় কৃষকের দীর্ঘ এক বছরের স্বপ্ন ও পরিশ্রম নিমেষেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল। ঝালাওয়াড় জেলার মিশ্রোলি এলাকার গুরাড়িয়া জোড়া গ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় কিছু দুষ্কৃতী এক কৃষকের খেত থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পপেয়া বা পেঁপে গাছ কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। রাতের অন্ধকারে ঘটা এই ধ্বংসলীলার খবর জানাজানি হতেই গোটা গ্রামে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। ঘটনার সুবিচার ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আয়ুষ পাটিদার দীর্ঘ এক বছর ধরে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর পাঁচ বিঘা জমিতে পপেয়া চাষ করেছিলেন। বাগানে ইতিমধ্যে ফলও আসতে শুরু করেছিল এবং মাত্র এক মাসের মধ্যেই ফসল তোলার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু কপাল খারাপ, ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগেই রাতের অন্ধকারে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা বাগানে হানা দেয়। আয়ুষ বাবু সকালে ঘুম থেকে উঠে খেতে গিয়ে যা দেখলেন, তাতে তাঁর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার জোগাড়। সাড়ে তিন হাজার গাছ কেটে মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে, যা দেখে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। এই ঘটনায় কৃষকের লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই নৃশংস ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গুরাড়িয়া জোড়া গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয় কৃষক ও সমাজসেবীরা একজোট হন। বৃহস্পতিবার তারা ঝালাওয়াড়ের মিনি সচিবালয়ে উপস্থিত হয়ে জেলা পুলিশ সুপারের (SP) কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। স্মারকলিপিতে তারা জানিয়েছেন, যে দুষ্কৃতীরা কৃষকের এই অপূরণীয় ক্ষতি করেছে, তাদের যেন অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
স্থানীয় গ্রামবাসীদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং একজন কঠোর পরিশ্রমী কৃষকের পেটে লাথি মারার সামিল। এই ঘটনার ফলে ওই এলাকার কৃষকদের মধ্যে ভীতি ও ক্ষোভ সঞ্চার হয়েছে। তারা দাবি করেছেন, স্থানীয় প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তারা। পুলিশ সুপার ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিলেও, দোষীরা এখনো অধরা। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা কৃষকদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এখন দেখার বিষয়, আয়ুষ পাটিদারের এই বিশাল ক্ষতির কত দ্রুত পুলিশ ও প্রশাসন ব্যবস্থা নেয় এবং দোষীরা আইনত কী শাস্তি পায়।