“এক ফোঁটা রক্ত না ঝরিয়েই কাশ্মীর দখল!” মোদি সরকারের ২৫ বছরের বিরাট সাফল্যের ফিরিস্তি দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রবিবার মুম্বইয়ের এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি পরিবর্তনের এক বিরাট বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এনডিএ সরকারের ঐতিহাসিক ২৫ বছরের রাজনৈতিক অভিযাত্রা এবং গত ১২ বছরের নিরঙ্কুশ সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে ঘোষণা করেছেন যে, ২০২৯ সালের পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশের অন্তত ২১টি বিজেপি এবং এনডিএ শাসিত রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে। তাঁর এই মাস্টারস্ট্রোক রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঐতিহাসিক তিন তালাক প্রথা বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন যে, এর মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি মুসলিম মহিলাকে আইনি সুরক্ষা এবং সমানাধিকার প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, ইতিমধ্যেই কয়েকটি রাজ্যে ইউসিসি লাগু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই বাকি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেও তা বাস্তবায়িত হবে। দেশের বিচার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতার জেরে বিচার প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন এসেছে এবং বেশ কয়েকটি রাজ্যে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে অপরাধীদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার একলাফে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দিনে দেশের সাধারণ মানুষ যাতে সর্বোচ্চ তিন বছরের মধ্যে আদালতের তরফ থেকে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার পান, সেই দুর্ভেদ্য আইনি ব্যবস্থাও সরকার নিশ্চিত করছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এদিনের বক্তব্যে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে শুরু করে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার একাধিক স্পর্শকাতর ও যুগান্তকারী সাফল্যের কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন অমিত শাহ। তিনি জানান যে, সংবিধানের ৩৭০ ধারা এবং ৩৫এ ধারা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল পদক্ষেপটি এক ফোঁটা রক্ত না ঝরিয়ে এবং কোনো রকম গুলিগোলা না চালিয়েই সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে, যা অখণ্ড ভারতের ভাবমূর্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে। দশকের পর দশক ধরে চলা মাওবাদী উপদ্রব এবং সন্ত্রাসের রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একের পর এক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলিতে ৯ হাজারের বেশি হিংসায় লিপ্ত মানুষ অস্ত্র ছেড়ে মূলস্রোতে ফিরে আত্মসমর্পণ করেছেন, যার ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চল আজ উন্নয়নের নতুন দিগন্ত ছুঁয়েছে।
সন্ত্রাসবাদ দমনের প্রশ্নে নরেন্দ্র মোদি সরকার যে আপসহীন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে, তার উদাহরণ দিতে গিয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, আকাশপথে নির্ভুল আক্রমণ এবং সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো দুঃসাহসিক সামরিক পদক্ষেপগুলির কথা স্মরণ করান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে এর মাঝেই মণিপুরের দীর্ঘস্থায়ী পরিস্থিতি এবং সেখানে ১৯৫১ সালকে ভিত্তি করে ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস (এনআরসি) বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জি প্রয়োগের জল্পনা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানান যে, কেন্দ্রীয় সরকার এই অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে তাড়াহুড়ো না করে উত্তর-পূর্বের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল এবং সমস্ত জোটসঙ্গীদের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সকলের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।