ক্রেডিট কার্ড হারালেই কি সর্বস্বান্ত? অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হলে টাকা ফেরাবে কে? জেনে নিন আরবিআই-এর কড়া নিয়ম!

আজকের আধুনিক যুগে নগদ টাকার ব্যবহার প্রায় উঠেই গেছে বলা চলে। দৈনন্দিন বাজারের টুকিটাকি কেনাকাটা থেকে শুরু করে শখের মোবাইল, এলইডি টিভি কিংবা রেফ্রিজারেটর—সবকিছুই এখন চলছে ইএমআই এবং ক্রেডিট কার্ডের উপর ভর করে। মাসের শেষে কিস্তির টাকা মিটিয়ে এই জীবনযাত্রা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের হলেও, সামান্য অসাবধানতায় যদি ক্রেডিট কার্ডটি বেহাত বা হারিয়ে যায়, তবে বিপদের অন্ত থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যে, হারিয়ে যাওয়া বা চুরি যাওয়া ক্রেডিট কার্ড দিয়ে যদি অন্য কেউ বেআইনিভাবে কেনাকাটা বা লেনদেন করে ফেলেন, তবে সেই আর্থিক দায়ভার আসলে কার ওপর বর্তাবে—ব্যাঙ্কের নাকি সাধারণ গ্রাহকের?

ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই জটিল প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্ভর করে মূলত দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। প্রথমত, ঠিক কোন সময়ে গ্রাহকের নজরে পুরো বিষয়টি এসেছে এবং দ্বিতীয়ত, তিনি ঠিক কত দ্রুত ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কার্ডটি ব্লক করাতে পেরেছেন। তাই পকেট থেকে ক্রেডিট কার্ড হারিয়ে গেলে বা খুঁজে না পাওয়া গেলে মুহূর্তের দেরি না করে অবিলম্বে সেই কার্ডটি ব্লক বা সাময়িকভাবে ফ্রিজ করে দেওয়া উচিত। বর্তমানের প্রায় সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কই তাদের মোবাইল অ্যাপ বা অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকদের এই ইনস্ট্যান্ট ব্লকিং বা ফ্রিজিং করার দারুণ সুবিধা প্রদান করে থাকে।

তবে একটা কথা মাথায় রাখা দরকার যে, হারিয়ে যাওয়া ক্রেডিট কার্ডে হওয়া প্রতিটি বেআইনি লেনদেনের দায়ভার সবসময় একা গ্রাহকের ওপর বর্তায় না। গ্রাহক যদি সময়মতো ব্যাঙ্ককে কার্ড হারিয়ে যাওয়ার নির্দিষ্ট তথ্য জানান এবং কার্ডটি অবিলম্বে ব্লক করতে বলেন, তবে তারপরে হওয়া কোনো লেনদেনের সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের ওপরই বর্তায়। কিন্তু যদি কার্ড ব্লক করার আগেই প্রতারকরা কোনো লেনদেন করে বসে, সে ক্ষেত্রে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক বা আরবিআই-এর সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের কাস্টমার প্রোটেকশন পলিসি কার্যকর হয়ে থাকে।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বা RBI-এর গাইডলাইন অনুযায়ী, যদি ব্যাঙ্কের নিজস্ব কোনো ভুল, অভ্যন্তরীণ গাফিলতি কিংবা সিস্টেমের খামতির কারণে ক্রেডিট কার্ডে কোনো ভুয়ো লেনদেন সম্পন্ন হয়, তবে সেই আর্থিক ক্ষতির জন্য গ্রাহককে কোনোভাবেই দায়ী করা যাবে না। এমনকি যদি কোনো থার্ড পার্টি ফ্রড বা তৃতীয় পক্ষের প্রতারণায় গ্রাহক ও ব্যাঙ্ক—কারো কোনো হাত না থাকে, সে ক্ষেত্রেও গ্রাহককে দায়বদ্ধ বলে গণ্য করা হয় না। তবে এই আর্থিক সুরক্ষা বা জিরো লায়াবিলিটি পাওয়ার জন্য গ্রাহককে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, কার্ড হারিয়ে যাওয়ার পর নয়, বরং ভুয়ো লেনদেনের এসএমএস বা নোটিফিকেশন হাতে পাওয়ার ঠিক তিন দিনের মধ্যে পুরো বিষয়টি ব্যাঙ্ককে আবশ্যিক ভাবে জানাতে হবে। যদি কোনো গ্রাহক লেনদেন হওয়ার চার থেকে সাত দিনের মধ্যে ব্যাঙ্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে খবর দেন, তবে সেই ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট আর্থিক সীমা পর্যন্ত দায়বদ্ধতা গ্রাহকের ওপর থাকতে পারে। তাই সামান্য অবহেলা না করে সচেতন থাকুন এবং ক্রেডিট কার্ডের সুরক্ষায় সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখুন।