‘ব্রিকস’-এর খেলায় আসল মোচড়! ২০% গ্রোথে বেজিংয়ের একচ্ছত্র আধিপত্য ভেঙে চুরমার ভারতের

বিগত কয়েক বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে উদীয়মান শক্তিসমূহের সংগঠন ‘ব্রিকস’ (BRICS)-এর প্রভাব লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ব্রিকসের অর্থনীতির এই জোয়ারের নেপথ্যে কতটা চিনের প্রভাব আর কতটা ভারতের ভূমিকা, তা নিয়ে বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান সামনে আনলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ সুরজিৎ ভাল্লা।

বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য বিশ্লেষণ করে তিনি দেখিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির এই খেলায় বিগত ৫ বছরে প্রবৃদ্ধির হারের (Growth Rate) নিরিখে ড্রাগনদের টেক্কা দিয়ে অনেক দ্রুত গতিতে দৌড়েছে ভারতীয় অর্থনীতি।

ব্রিকসে চিনের আধিপত্য: চমকে দেওয়া পরিসংখ্যান

অর্থনীতিবিদ সুরজিৎ ভাল্লার সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১১ সালে বিশ্বের মোট আয়ের যেখানে ২১.৯ শতাংশ ছিল ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির দখলে, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮.৯ শতাংশে। কিন্তু এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফের ভেতরে রয়েছে এক অন্য গল্প।

ব্রিকসের মোট বিশ্ব আয়ে চিনের অংশ ২০১১ সালের ৪৫.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে একলাফে ৬০.২ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ব্রিকসের এই বৃদ্ধির প্রায় ৭২ শতাংশ আয়ের চালিকাশক্তিই ছিল বেজিং। ব্রিকস থেকে চিনকে বাদ দিলে বাকি ১০ সদস্যের অবদান সামগ্রিক বিশ্ব আয়ে ১১.৯ শতাংশ থেকে কমে ১১.৫ শতাংশে নেমে আসে।

৫ বছরের হিসেবে পাশা উল্টে দিয়েছে ভারত

ব্রিকসের ওপর চিনের এই একচ্ছত্র আর্থিক প্রভাব সত্ত্বেও গত ৫ বছরে চিত্রপট অনেকটাই বদলে দিয়েছে ভারত। বিশ্বব্যাঙ্কের ‘জিএনআই পার ক্যাপিটা, অ্যাটলাস মেথড’ (GNI per capita, Atlas Method)-এর ভিত্তিতে ভাল্লা দেখাচ্ছেন যে, অর্থ পরিমাপের সূচকে চিনের তুলনায় ভারতের আয় অনেক দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূচক (গ্রস ন্যাশনাল ইনকাম – GNI)২০২০ সাল২০২৫ সাল৫ বছরের বৃদ্ধির হার
ভারতের জিএনআই (GNI)$২.৬৭ ট্রিলিয়ন \vert{} $৪.০৪ ট্রিলিয়ন৫২%
চিনের জিএনআই (GNI)$১৫.১৫ ট্রিলিয়ন \vert{} $২০.০২ ট্রিলিয়ন৩২%

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতে মোট জিএনআই বৃদ্ধির হার চিনের থেকে প্রায় ২০ শতাংশ পয়েন্ট বেশি

অর্থনৈতিক লড়াইয়ে ব্যবধান ঠিক কতটা কমল?

গ্রোথ রেট বা বৃদ্ধির হারে ভারত চিনকে পেছনে ফেললেও, বাস্তব অর্থনৈতিক আয়তনের দিকে নজর দিলে দুই দেশের বড় ব্যবধান এখনও স্পষ্ট:

  • পাঁচ গুণ বড় অর্থনীতি: ২০২৫ সালেও অর্থনৈতিক আয়তনের নিরিখে চিনের জিএনআই ভারতের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বড়।

  • আসল আয়ের পরিমাণ: চিনের বিশাল আর্থিক ভিতের কারণে বিগত ৫ বছরে তাদের নিট আয় বেড়েছে ৪.৮৬ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ১.৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার।

  • কমেছে ব্যবধান: শুভ ইঙ্গিত এটাই যে, ২০২০ সালে ভারতের মোট জিএনআই ছিল চিনের সামগ্রিক আয়তনের ১৮ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ২০ শতাংশ।

সংখ্যার বিচারে বিশ্ব অর্থনীতিতে এখনও চিনের অবস্থান সুদৃঢ় থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও জিএনআই বৃদ্ধির ধারাবাহিক হার স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে বিশ্বমঞ্চে ভারতের শক্তি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।