উইকেন্ডে মর্মান্তিক পরিণতি! সুপারবাইক রাইডারের ওপর বেপরোয়া গাড়ির পৈশাচিক হামলা, ক্যামেরায় ধরা পড়ল রক্তহিম করা দৃশ্য!

সুপারবাইকের তীব্র গতিতে মজে উইকেন্ডের সকালে বন্ধুদের সঙ্গে লং রাইডে বেরোনোই ছিল তাঁর স্বভাব। কিন্তু রবিবারের সেই ছুটির রাইড যে এমন এক রোমহর্ষক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনায় রূপ নেবে, তা হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি তরুণী বাইকার সিয়া। রাজধানী সংলগ্ন গুরুগ্রামের বিখ্যাত গলফ কোর্স রোডে একটি বেপরোয়া গতির সেডান গাড়ির সজোরে ধাক্কায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন তিনি। গাড়িটি ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাওয়ার এই পুরো লোমহর্ষক ঘটনাটি সিয়ার হেলমেটে থাকা অ্যাকশন ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে বন্দি হয়েছে। সেই হাড়হিম করা ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বাইকার দলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবারের সকালে কয়েকজন সহ-বাইকারের সঙ্গে প্রাতঃকালীন রাইডে বেরিয়েছিলেন সিয়া। ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি সাদা রঙের সেডান গাড়ি বেশ কিছুক্ষণ ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের পিছু নিচ্ছিল। গাড়ির চালক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালাচ্ছিল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সিয়া প্রথমে গাড়িটির চালককে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলার অনুরোধ জানান। কিন্তু তাতেও কর্ণপাত করেনি সেই চালক। উল্টো বাইক থামানোর জন্য তরুণীকে বেপরোয়া হুমকি দিতে শুরু করে সে। সিয়ার দাবি, ওই গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা মারাত্মক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন, যদিও গাড়িতে ঠিক কতজন আরোহী ছিলেন তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
আসন্ন বিপদ টের পেয়ে সিয়া নিজের সুপারবাইকের গতি বাড়িয়ে গাড়িটির থেকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যাতে গাড়িটি সামনে এসে আর কোনো নাশকতা ঘটাতে না পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেডানটি তাঁদের পিছু ধাওয়া করতেই থাকে। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় সিয়ার নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁর এক সহ-বাইকার নিজের বাইকটি নিয়ে সিয়ার পেছনে চলে আসেন, যাতে ঘাতক গাড়িটিকে আটকানো যায়। ঠিক তখনই ঘটে যায় সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আচমকাই গাড়ির গতি বাড়িয়ে লেন বদলে সজোরে সিয়ার সুপারবাইকে ধাক্কা মারে সেই সেডান গাড়িটি। বিকট শব্দে মুহূর্তের মধ্যে পিচ রাস্তার ওপর সজোরে ছিটকে পড়েন তরুণী। অ্যাসফল্টের চাকার ঘর্ষণে রাস্তায় তখন আগুনের ফুলকি ছুটতে শুরু করে।
অন্যান্য রাইডারদের ক্যামেরায় তোলা অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পরপরই সিয়ার এক সহ-বাইকার সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে দ্রুত বাইক চালিয়ে সেই ঘাতক গাড়িটির পিছু ধাওয়া করেন। কিছুটা দূরে একটি ট্র্যাফিক সিগন্যালে গাড়িটি বাধ্য হয়ে দাঁড়ালে তিনি চালকের সামনে গিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। কিন্তু সুযোগ বুঝে সিগন্যাল সবুজ হতেই গাড়িটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সেখান থেকে চম্পট দেয়। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় মারাত্মক জখম অবস্থায় সিয়াকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর নিবিড় চিকিৎসা চলছে।
ভিডিওটি নেটপাড়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে গুরুগ্রাম পুলিশ। দ্রুত শুরু হয়েছে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত। আর এই তদন্তে নেমে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর মোড়। পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে যে গাড়িটির আসল মালিক মনীশ নামে এক ব্যক্তি। বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত মনীশ এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, “আমার স্কুলের এক বন্ধু মাত্র দু’দিনের জন্য আমার গাড়িটি চেয়ে নিয়েছিল। সমাজমাধ্যমে দুর্ঘটনার এই ভিডিওটি দেখার পর আমি যখন আমার বন্ধুকে ফোন করি, তখন সে জানায় যে তার চেনা অন্য এক পরিচিত ব্যক্তি গাড়িটি নিয়ে কোথাও গিয়েছিল, যাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে সেভাবে চিনিও না।” মনীশের জোরালো দাবি, এই মুহূর্তে ঠিক কোন জায়গায় অভিযুক্ত চালক ও সেই ঘাতক গাড়িটি লুকিয়ে রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর নিজেরও বিন্দুমাত্র কোনো ধারণা নেই। পুলিশ এখন অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।