একই পরিবারের শোকের ছায়া! গাড়ি নিয়ে তাণ্ডব চালকের, জয়পুরে প্রাণ গেল বাবা ও মেয়ের

রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরে রবিবার গভীর রাতে এক ভয়াবহ ‘হিট অ্যান্ড রান’ দুর্ঘটনায় স্তব্ধ জনজীবন। একটি দ্রুতগামী গাড়ির বেপরোয়া গতির বলি হয়েছেন একই পরিবারের দুজন—বাবা ও তাঁর আড়াই বছরের শিশুকন্যা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ওই ব্যক্তির স্ত্রী ও ছেলে। ঘাতক গাড়িটি শুধু বাইকের ওপর দিয়েই উঠে যায়নি, তার আগে ও পরে প্রায় ছয়টি যানবাহনকে ধাক্কা দিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাত সাড়েনটা নাগাদ জয়পুরের সাঙ্গানের এলাকার এলএমবি মোড়ে। ভরতপুরের বাসিন্দা এবং বর্তমানে জয়পুরের দুর্গাপুরায় বসবাসকারী ৩৫ বছর বয়সী বিষ্ণু তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও আড়াই বছরের মেয়ে সৃষ্টিকে নিয়ে বাইকে করে কোথাও যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, হরিয়ানার রেজিস্ট্রেশন নম্বর যুক্ত একটি দ্রুতগামী গাড়ি তীব্র গতিতে এসে প্রথমে বিষ্ণুর বাইকে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বাইক থেকে সপরিবারে তাঁরা ছিটকে রাস্তায় পড়েন। ঘটনাস্থলেই শিশুকন্যা সৃষ্টির মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা বিষ্ণুকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষ্ণুর স্ত্রী ও ছেলে বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তবে এখানেই শেষ নয়, বাইককে ধাক্কা দেওয়ার পরও গাড়ি চালক গাড়ি থামায়নি। নিয়ন্ত্রণহীন গাড়িটি এরপর ওই এলাকার আরও অন্তত ছয়টি যানবাহনকে ধাক্কা দেয়। এর ফলে রাজপথে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে চালক গাড়ি ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। মালপুরা গেট থানার পুলিশ খবর পাওয়া মাত্রই এলাকায় রোড ব্লক করে দেয় এবং দ্রুত তল্লাশি শুরু করে। অবশেষে হলদিঘাটি গেটের কাছ থেকে ঘাতক গাড়িটির চালককে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ধৃত চালককে থানায় নিয়ে গিয়ে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। চালক মদ্যপ ছিল কি না বা ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তার ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। পরে পুলিশি তৎপরতায় দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো রাস্তা থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
মৃতদেহ দুটি বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে পরিবারকে দুর্ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হলে মৃতদেহগুলো স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মালপুরা গেট থানার আধিকারিক উদয়ভান যাদব। গোটা জয়পুর জুড়ে এই ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং প্রশ্ন উঠছে শহরের রাজপথে চালকদের বেপরোয়া মনোভাব ও নিরাপত্তা নিয়ে।