এআই নিয়ে ট্রাম্পের বড় চাল! কিউরেটর না কি সেন্সর? মার্কিন সরকারের নজরদারিতে গুগল-মাইক্রোসফট!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তিনি, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রধান এআই কোম্পানিগুলোর ওপর মার্কিন সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও পোক্ত হলো। এই নির্দেশের মূল লক্ষ্য হলো—কোনো এআই সিস্টেম বা মডেল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে সেগুলোর নিরাপত্তা ও সক্ষমতা যাচাই করা।

নতুন এই নির্দেশনার আওতায় ওপেনএআই (OpenAI), অ্যানথ্রোপিক (Anthropic), গুগল (Google), এবং মাইক্রোসফট (Microsoft)-এর মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের ডেভেলপারদের অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন তাদের তৈরি উন্নত এআই মডেলগুলো বাজারে ছাড়ার অন্তত ৩০ দিন আগে মার্কিন সরকারের কাছে সেগুলোর ‘প্রাথমিক প্রবেশাধিকার’ (Access) প্রদান করে। এই সময়ের মধ্যে সরকার সেগুলোর সক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখবে। হোয়াইট হাউসের মতে, এটি একটি স্বেচ্ছামূলক সহযোগিতা কাঠামো, যার উদ্দেশ্য হলো সাইবার আক্রমণের মতো এআই-জনিত ঝুঁকিগুলো প্রতিরোধ করা।

উল্লেখ্য যে, ২ জুনের এই নির্বাহী আদেশে সরকারি পর্যালোচনার সময়সীমা আগের ৯০ দিন থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ ৩০ দিন করা হয়েছে, যা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। এই নির্দেশনার অধীনে এআই কোম্পানিগুলো স্বেচ্ছায় মার্কিন সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবে। যদিও এটি বাধ্যতামূলক কোনো আইন নয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি বার্তা স্পষ্ট—প্রযুক্তির দৌড়ে নিরাপত্তা কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়।

তবে এই আদেশ বাস্তবায়নের পথটি কিন্তু মোটেও মসৃণ ছিল না। প্রায় দুই সপ্তাহ আগেই ২০ মে হোয়াইট হাউসে এই নির্বাহী আদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের দিন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প সেই অনুষ্ঠান বাতিল করে দেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছিলেন, নির্দেশিকার কিছু নির্দিষ্ট দিক নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। ট্রাম্পের মূল উদ্বেগের জায়গা ছিল—এই ধরনের কড়াকড়ি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্বজনীন প্রতিযোগিতায়, বিশেষ করে চীনের সঙ্গে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয় কি না। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, এআই প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে মার্কিন কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে পিছিয়ে পড়তে পারে।

দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা এবং খুঁটিনাটি পরিবর্তনের পর অবশেষে ২ জুন এই আদেশে স্বাক্ষর করা হয়। সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, ৩০ দিনের সরকারি পর্যালোচনার সময় কি এআই মডেলের গোপনীয়তা ও উদ্ভাবনের গতিকে ধীর করে দেবে? অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, এআই এখন আর কেবল একটি টুল নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই সরকারের হাতে এই প্রযুক্তি পরীক্ষা করার ক্ষমতা থাকা অপরিহার্য।

এখন দেখার বিষয়, সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি সংস্থাগুলো সরকারের এই ‘স্বেচ্ছামূলক’ তদারকিকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং আগামী দিনে এআই প্রযুক্তির সুরক্ষা ও উদ্ভাবনের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন কী নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy