এআই-এর কবলে চাকরি! অসুস্থ ও ছুটিতে থাকা কর্মীদের ছাঁটাই করছে মেটা? চাঞ্চল্যকর মামলায় তোলপাড়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) বর্তমান যুগে কর্মসংস্থানের জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রযুক্তিখাতের বড় বড় কোম্পানিগুলো যখন এআই-তে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে, তখন বিশ্বজুড়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের হিড়িক পড়েছে। তবে এবার মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা) নিয়ে সামনে এসেছে এক ভয়াবহ তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, সংস্থাটি এআই ব্যবহার করে অসুস্থ, মাতৃত্বকালীন বা পারিবারিক ছুটিতে থাকা কর্মীদের শনাক্ত করে তাঁদের পরিকল্পিতভাবে ছাঁটাই করছে।

সম্প্রতি মেটার ২৬ জন কর্মী কোম্পানির বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ এআই সিস্টেম, কীস্ট্রোক মনিটরিং, এবং অ্যালগরিদম-ভিত্তিক পারফরম্যান্স র‍্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে সেই সব কর্মীদের ছাঁটাইয়ের তালিকায় ফেলেছে, যারা বিভিন্ন চিকিৎসাজনিত বা ব্যক্তিগত কারণে ছুটিতে ছিলেন। এই ২৬ জন কর্মী সেই ৮,০০০ কর্মীর অংশ, যাদের গত মে মাসে ছাঁটাই করা হয়েছিল।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এআই এমন কর্মীদের একটি তালিকা তৈরি করেছে, যারা প্রতিবন্ধকতা বা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে আগের মতো কাজের গতি বজায় রাখতে পারেননি। মেটা তাঁদের কর্মক্ষমতার স্কোর নির্ধারণের সময় এই সংরক্ষিত ছুটির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। অভিযোগ রয়েছে, এক কর্মী তাঁর গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কথা প্রকাশ করলে ব্যবস্থাপক সরাসরি সতর্ক করেছিলেন যে, ছুটির আবেদন করলে তাঁকে ছাঁটাইয়ের তালিকায় রাখা হতে পারে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী কর্মীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও দেয়নি মেটা।

মামলার বয়ান অনুযায়ী, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন, যারা মাতৃত্বকালীন, পিতৃত্বকালীন কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের অসুস্থতার কারণে শোককালীন ছুটিতে ছিলেন। আইনের তোয়াক্কা না করে এআই-এর রায়ে তাঁদের পেশাগত জীবন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কর্মীরা মনে করছেন, কোম্পানিটি এআই-কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ব্যয় সংকোচনের নামে অমানবিক আচরণ করছে।

অপরদিকে, এই সব অভিযোগকে পুরোপুরি নাকচ করেছে মেটা। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, এই দাবিগুলো ভিত্তিহীন এবং তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নয়। মেটা স্পষ্টভাবে দাবি করেছে, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে মানুষের মাধ্যমেই নেওয়া হয়, কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখানে কোনো ভূমিকা পালন করে না। তাদের মতে, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের মধ্যে অনেকের ছুটি-সংক্রান্ত ব্যক্তিগত কারণ থাকতে পারে, কিন্তু তার সঙ্গে এআই-এর কোনো যোগসূত্র নেই।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্বে এআই-এর ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়, কিন্তু কর্মীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও ছুটির তথ্যের ভিত্তিতে এআই দিয়ে ছাঁটাইয়ের এই অভিযোগ প্রযুক্তি বিশ্বে এক বড় নৈতিক সংকটের সৃষ্টি করেছে। আদালত এখন এই মামলার শুনানি করবে, আর সেই বিচারের ওপরই নির্ভর করছে এআই-এর দাপটে আক্রান্ত হাজার হাজার কর্মীর ভবিষ্যৎ। প্রযুক্তি কি তবে মানুষের জায়গা নিচ্ছে, নাকি মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে।