ঋতব্রতকে ‘বালিশ তৃণমূল’ কটাক্ষ কুণালের! কালিঘাটের মুখপাত্রের তোপে ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব যেন থামার নামই নিচ্ছে না। রাজ্যের শাসকদলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে বিরোধ নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে এবার আক্রমণ যেন সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। কুণাল ঘোষের একের পর এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং মন্তব্যে কার্যত তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এবার সরাসরি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী বা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে ‘বালিশ তৃণমূল’ ও ‘চাটন তৃণমূল’ বলে অভিহিত করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক।

আক্রমণের নতুন মাত্রা
কালিঘাটের তৃণমূল ভবনের অন্দরের খবর হোক বা দলের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, কুণাল ঘোষ বরাবরই তাঁর স্পষ্টবাদী বক্তব্যের জন্য পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের প্রতি তাঁর আক্রমণের ধরণ বদলেছে। কুণাল ঘোষের দাবি, ঋতব্রত শিবিরের সংখ্যা বা প্রভাব যতই বাড়ছে, ততই দলের শৃঙ্খলার পরিপন্থী কার্যকলাপ বাড়ছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, যে বা যারা দলের আদর্শ থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ বা চাটুকারিতায় মত্ত, তারাই হলো এই ‘চাটন তৃণমূল’। তাঁর কথায়, এই ধরনের মানসিকতা দলের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের সংস্কৃতিকে নষ্ট করছে।

বালিশ তৃণমূলের রহস্য
‘বালিশ তৃণমূল’—এই শব্দবন্ধটি কুণাল ঘোষের মুখ থেকে শোনার পর থেকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। কুণালের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যারা কোনো নীতি-আদর্শের তোয়াক্কা না করে কেবল নেতৃত্বের সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য বা অলস আরামদায়ক অবস্থানে থাকার জন্য তৃণমূলের তকমা ব্যবহার করছে, তাদেরই তিনি এই তকমা দিয়েছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছাতার তলায় এক শ্রেণির এমন কর্মীরা জড়ো হয়েছেন, যারা রাজনীতির চেয়ে ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়েই বেশি পারদর্শী।

কুণাল বনাম ঋতব্রত: রাজনৈতিক সমীকরণ
এই বিরোধ কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দলের একাংশের মতে, কুণাল ঘোষ দলের পুরনো ও ত্যাগী কর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সমর্থকদের দাবি, কুণাল ঘোষ নিজের গুরুত্ব বজায় রাখতেই এমন অসংলগ্ন মন্তব্য করছেন। দলীয় নেতৃত্ব এই বিষয়ে সরাসরি মুখ না খুললেও, এই ধরনের প্রকাশ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়ি যে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, তা নিয়ে অন্দরে চর্চা শুরু হয়েছে।

কুণাল ঘোষের এই বিস্ফোরক তোপের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অনুগামীরা কুণালকে পাল্টা আক্রমণ করতে ছাড়ছেন না। এক বিধায়ক ও মুখপাত্রের এই লড়াই আদতে শাসকদলের জন্য আসন্ন নির্বাচন বা বড় কোনো ইভেন্টের আগে কতটা অস্বস্তি বাড়াবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। কুণাল ঘোষের এই ‘তোপ’ যে দীর্ঘস্থায়ী হতে চলেছে, তা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের ভাষা দেখলেই স্পষ্ট। রাজনৈতিক মহলে এখন দেখার বিষয়, শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে কি কোনো শৃঙ্খলা ফেরাতে পারে, নাকি এই ‘বালিশ তৃণমূল’ বিতর্ক আরও বড় আকার নেয়।