ট্রাম্পের মাথায় বন্দুক! ইরানের গোপন হিটলিস্টে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট, প্রতিশোধের হুঙ্কারে কাঁপছে বিশ্ব

আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত সামরিক হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে তেহরানের গোপন ‘হিটলিস্ট’। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়িয়ে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিকেশ করার সরাসরি হুমকি দিয়েছে ইরান। ইরানের বর্তমান সুপ্রিম নেতা মোজতাবা আলি খামেনেইর প্রথম প্রকাশ্য বার্তার সঙ্গেই এই চাঞ্চল্যকর হিটলিস্টের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
ইরানের ১৩ জনের হিটলিস্ট
ইরানের তৈরি এই হিটলিস্টে মোট ১৩ জনের নাম রয়েছে, যার মধ্যে ১০ জনই বিশ্বের ক্ষমতাধর বিদেশি রাষ্ট্রনেতা। তালিকার শীর্ষেই রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন ব্রিটিশ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জ, মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মোজতাবা খামেনেই এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “প্রতিশোধ আমাদের জাতির ইচ্ছে। এই অপরাধীরা যারা তালিকায় আছে, তারা আর কোনোদিন শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না।”
ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ওদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, অ্যান্টি-এয়ারক্র্যাফট সিস্টেম—সব শেষ। ওদের সেরা কমান্ডারদের মেরে ফেলা হয়েছে। এমনকি খামেনেইর উত্তরসূরি মোজতাবা খামেনিও গুরুতর জখম, সে ৯০ শতাংশ শেষ।” গোয়েন্দা তথ্যের দাবি, গুরুতর আহত হওয়ার কারণেই মোজতাবাকে সম্প্রতি জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না।
হরমুজ প্রণালী ও ২০ শতাংশ শুল্কের বিতর্ক
সামরিক চাপের পাশাপাশি ট্রাম্প নতুন এক কৌশল গ্রহণ করেছেন। তিনি হরমুজ প্রণালীকে ‘ইরানিয়ান ব্লকেড’-এর আওতায় আনার ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সুরক্ষিত রাখতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘অভিভাবক’-এর ভূমিকা পালন করবে। বিনিময়ে, এই প্রণালী ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজ সংস্থাগুলোর ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ বলে খারিজ করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি পাল্টা দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের ঐতিহাসিক ও আইনি অধিকার রয়েছে এবং তারাই এর প্রকৃত অভিভাবক।
বিশ্বের শক্তি সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ করিডোরকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই নতুন লড়াই বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে। একদিকে ট্রাম্পের ‘সর্বনাশা’ সামরিক অভিযান এবং অন্যদিকে ইরানের ‘হিটলিস্টে’র প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন এক বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে।