উৎসবের মরসুমে টাকার বৃষ্টি! কুইক কমার্সে এক লাফে লাখ লাখ চাকরির সুযোগ, জানুন বিস্তারিত!

এই উৎসবের মরসুমে গ্রাহকদের দোরগোড়ায় অত্যন্ত দ্রুত ডেলিভারি নিশ্চিত করতে কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি অস্থায়ী বা ফ্লেক্সি কর্মী নিয়োগ করতে চলেছে। বিভিন্ন শিল্প প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট জানা যাচ্ছে যে, উৎসবের এই সময়ে ক্রেতাদের পছন্দমতো কেনাকাটা এবং ঝটপট পণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রবণতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় কোম্পানিগুলো তাদের পরিকাঠামো বহুগুণ শক্তিশালী করছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি-দক্ষ এবং আধুনিক লজিস্টিকস পরিচালনায় পারদর্শী কর্মীদের চাহিদা এই মুহূর্তে তুঙ্গে পৌঁছেছে।
ওয়্যারহাউস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অপারেটর, অটোমেটেড পিক-অ্যান্ড-প্যাক সুপারভাইজার, ইনভেন্টরি রিকনসিলিয়েশন টেকনিশিয়ান, আরএফআইডি বা বারকোড স্ক্যানার স্পেশালিস্ট এবং রুট নির্ধারণ থেকে শুরু করে কর্মীদের কাজ বণ্টন পর্যন্ত এআই (AI) সিস্টেম ব্যবস্থাপনার মতো আধুনিক পদের জন্য এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় নিয়োগ পরিষেবা এবং কর্মী সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মাসের শেষের দিক থেকে শুরু হতে চলা উৎসবের মরসুমে শুধুমাত্র এই সেক্টরে প্রায় ১ লক্ষ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ পর্যন্ত নতুন অস্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। শুধু তাই নয়, কাজের ধরন ও অবস্থানের ওপর নির্ভর করে কর্মীদের বেতন প্রায় ১২ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়্যারহাউসের গুদামজাতকরণ থেকে শুরু করে একেবারে শেষ ধাপের ডেলিভারি পর্যন্ত সবকিছু নিখুঁতভাবে সামলানোর জন্য কোম্পানিগুলোর কর্মী দরকার। র্যান্ডস্ট্যাড ইন্ডিয়ার অপারেশনাল ট্যালেন্ট সলিউশনস-এর চিফ কমার্শিয়াল অফিসার যেশাব গিরি ইকোনমিক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছেন যে, গত বছর মোট উৎসবকালীন ফ্লেক্সি কর্মী নিয়োগের মাত্র ১৬ থেকে ১৮ শতাংশ ছিল কিউ-কমার্স খাতে, কিন্তু এই বছর তা এক লাফে প্রায় ৩০ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে। র্যান্ডস্ট্যাডের অনুমান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এই সেক্টরে নিয়োগ প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। অন্যদিকে, টিমলীজ সার্ভিসেস তাদের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আরও আশাবাদী পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানিয়েছে যে, এই বছরের উৎসবের মরসুমে মোট ফ্লেক্সি কর্মী চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশই দখল করবে এই কুইক কমার্স বা দ্রুত ডেলিভারি খাত।
টিমলীজ সার্ভিসেস-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বালাসুব্রামানিয়ান এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ক্রেতাদের কেনাকাটার অভ্যাসে এক বিরাট পরিবর্তন এসেছে। সাধারণ মানুষ এখন ঐতিহ্যবাহী রিটেইল দোকান বা প্রথাগত ই-কমার্সের পরিবর্তে ১০-১৫ মিনিটে পণ্য পৌঁছে দেওয়া কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর বেশি ভরসা করছেন। টিমলীজের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এই খাতে অস্থায়ী চাকরির সংখ্যা গত বছরের প্রায় ৬০,০০০ থেকে লাফিয়ে ১,০০,০০০ ছাড়িয়ে যাবে। অন্যদিকে র্যান্ডস্ট্যাড আরও অনেক বেশি আশাবাদী, তাদের মতে এই সংখ্যাটি ৩,০০,০০০-এর ঘরও অতিক্রম করতে পারে।
বর্তমানে ভারতের কুইক কমার্স কোম্পানিগুলো প্রধানত টিয়ার-১ শহরগুলোর হাবগুলোতে প্রায় ৫,৫০০ থেকে ৬,০০০টি ডার্ক স্টোর সফলভাবে পরিচালনা করছে এবং একই সঙ্গে টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহราঞ্চলেও তাদের নেটওয়ার্ক দ্রুত প্রসারিত করছে। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে আরও ১,০০০ থেকে ১,৫০০টি নতুন ডার্ক স্টোর খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে ডেলিভারির কঠিন প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় ম্যানুয়াল ভুলত্রুটি শূন্যে নামিয়ে আনতে প্রযুক্তি-সচেতন এবং দক্ষ প্রতিভার চাহিদা আকাশছোঁয়া।