সিরিয়াল কিসার’ তকমা ঝেড়ে ফেলে বড় চমক দিলেন ইমরান হাশমি! কেন ‘আওয়ারাঁপান ২’-এ রাখলেন না একটিও চুম্বনের দৃশ্য?

ইমরান হাশমির কামব্যাক ছবি ‘আওয়ারাঁপান ২’ বক্স অফিসে যেমন দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে, তেমনই দর্শকদের মনের কোণে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে। যদিও এই ছবির মূল গল্প আরও নিখুঁত হতে পারত, তবুও রূপালি পর্দায় আইকনিক চরিত্র ‘শিবম পণ্ডিত’-এর প্রত্যাবর্তন দর্শকদের সমস্ত অপেক্ষাকে সার্থক করে তুলেছে। এই সিক্যুয়েলটিতে অভিনেতা ইমরান হাশমি এবং দিশা পাটানির রসায়ন ও একটি আবেগঘন প্রেমের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। যদিও ছবির শেষে তাদের একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে না, তবে তাদের এই অসমাপ্ত রসায়ন দর্শকদের মনে গভীর দাগ কেটেছে। তবে গোটা ছবির সবচেয়ে বড় এবং অপ্রত্যাশিত চমক ছিল অন্য একটি জায়গায়। একসময়ের ‘সিরিয়াল কিসার’ তকমা গায়ে সাঁটা ইমরান হাশমির এই ছবিতে একটিও চুম্বনের দৃশ্য রাখা হয়নি, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সিনেমা প্রেমীদের মধ্যে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন ছবিটির লেখক বিলাল সিদ্দিকী। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ছবিতে রোমান্টিক বা চুম্বনের দৃশ্য বাদ দেওয়ার বিষয়টি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং নির্মাতারা অত্যন্ত সচেতনভাবেই এই ধরনের দৃশ্য ছবির চিত্রনাট্যে রাখা থেকে বিরত থেকেছেন। এর মূল কারণ ছিল ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া মূল ‘আওয়ারাঁপান’ ছবির সঙ্গে সুর মেলানো এবং চরিত্রটির আবেগঘন যাত্রার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। আসল ছবিটিতেও এমন কোনো অপ্রয়োজনীয় দৃশ্য ছিল না, তাই সিক্যুয়েলটির ক্ষেত্রেও সেই মৌলিক ধারা বজায় রাখা হয়েছে।

লেখকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘আওয়ারাঁপান ২’-এ ইমরান হাশমির অভিনীত শিবম চরিত্রটি তার অতীতের ভালোবাসা এবং হারানো প্রিয়ার স্মৃতিতে সবসময় আচ্ছন্ন থাকে। শুধুমাত্র তারকার পরিচিত বাণিজ্যিক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে বা দর্শকদের প্রত্যাশা মেটাতে যদি ছবিতে জোর করে কোনো রোমান্টিক দৃশ্য ঢুকিয়ে দেওয়া হতো, তবে তা শিবমের চরিত্রের মূল আবেগের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হতো এবং তা অত্যন্ত কৃত্রিম বলে মনে হতো। আজ যখন দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি সম্পূর্ণ উপভোগ করেছেন, তখন তারা সহজেই বুঝতে পারছেন যে চিত্রনাট্যের এই পরিমিতিবোধ চরিত্রের প্রতি কতটা সুবিচার করেছে। শিবম আজও তার প্রয়াত প্রেমিকাকে মনেপ্রাণে শ্রদ্ধা করে এবং সেই আবেগজনিত জায়গা থেকে সে কখনোই পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারে না। এই নিখাদ মানসিক টান ও গভীর বেদনার প্রকাশই ছবিটিকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।