‘উনি কি মন্দির তৈরির জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন?’ – নিউ টাউনে মন্দির নির্মাণ নিয়ে সরাসরি মমতাকে আক্রমণ হুমায়ুন কবীরের

মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আজ, শনিবার বাবরি মসজিদের শিলান্যাস অনুষ্ঠানের আগে একযোগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। এই মন্তব্য এমন সময় এলো যখন তৃণমূল তাঁকে সাসপেন্ড করেছে এবং বিজেপির সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলেছে। একসময় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হুমায়ুন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত থাকলেও, এবার তাঁর আক্রমণের মূল লক্ষ্য শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষই।

‘কে কত বড় হিন্দু, সেই প্রতিযোগিতা চলছে’

হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে বর্তমানে একটাই প্রতিযোগিতা চলছে— ‘কে কত বড় হিন্দু’। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের শাসক এবং বিরোধী দলের মধ্যে হিন্দুত্বের রাজনীতি নিয়ে চরম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। তাই তিনি সংখ্যালঘুদের অধিকার বুঝে নিতে চান।

হুমায়ুন বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না শুভেন্দু অধিকারী, কে বড় হিন্দু, তার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। শুভেন্দু বলছেন তিনি সনাতনী। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি টাকা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মন্দির তৈরি করে প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন।”

নিউ টাউনে মন্দির নির্মাণ নিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে হুমায়ুন সরাসরি প্রশ্ন করেন, “উনি কি মন্দির তৈরি করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন?” তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি অর্থে মন্দির নির্মাণ চলছে এবং এ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বাড়াবাড়ি করছেন।

হুমায়ুনের দাবি, “জগন্নাথ মন্দিরকে ওড়িশা থেকে টেনে নিয়ে এসেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “নিউ টাউনে ইকো পার্কের ১ নম্বর গেটের কাছে স্বাস্থ্য ভবনের জায়গা ছিল। সেখানে মন্দির তৈরির কাজ চলছে।”

সাসপেনশন নিয়ে পাল্টা জবাব

তৃণমূলের সাসপেনশন এবং বিজেপির সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন হুমায়ুন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি রাজনৈতিক কারণে মসজিদ তৈরি করছেন না।

তিনি মনে করিয়ে দেন, তিনি ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বরই মসজিদ তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন, তখন তৃণমূল নেতৃত্ব কোনো আপত্তি জানায়নি।

হুমায়ুন বলেন, “তখন কেন তৃণমূল নেতাদের ঘুম ছোটেনি। তৃণমূল আমাকে আন্ডার এস্টিমেট করেছিল।”

নিজের এই বিতর্কিত পদক্ষেপের মাধ্যমে, একসময় একাধিক রাজনৈতিক দলের সদস্য হুমায়ুন কবীর এখন বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দিলেন।