উত্তাল কেরালা বিশ্ববিদ্যালয়! ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এসএফআই-এর বিশাল জয়ের পরেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

কেরালা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যের রাজধানী তিরুবনন্তপুরমে তৈরি হলো রণক্ষেত্র। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে রাজ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ সরকারের জয়ের আমেজ থাকলেও, ছাত্র রাজনীতির ময়দানে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)-এর জয়জয়কার অব্যাহত। তবে জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠা এসএফআই এবং পরাজিত কেএসইউ (KSU) কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল, যেখানে আহত হলেন খোদ পুলিশ সদস্যরাও।

সোমবার রাতে কেরালা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এসএফআই একটি বিশাল বিজয় মিছিল বের করে। ৩৭টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতেই জয়লাভ করে তারা নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন কেএসইউ মাত্র দুটি আসন পেয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে। সূত্রের খবর, এই বিশাল ব্যবধানে জয় উদযাপনের সময় মিছিলটি ক্যাম্পাসের বাইরে আসতেই দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। এসএফআই-এর অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন কেএসইউ কর্মীরা তাদের ওপর পাথর ছোঁড়ে। অন্যদিকে, কেএসইউ-এর পাল্টা অভিযোগ, বিজয় মিছিলের আড়ালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সংঘর্ষের আঁচ রাস্তায় ছড়িয়ে পড়লে ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি। পুলিশ জানিয়েছে, পাথর ও লাঠির আঘাতে তাদের এক এসএইচও (SHO)-র বাঁ হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে গিয়েছে। আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষপর্যন্ত পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করতে হয়।

এই ঘটনার পর থেকে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানো রাজ্যসভার সাংসদ ও ডিওয়াইএফআই (DYFI) নেতা এ. এ. রহিম সরাসরি কেএসইউ-কে অভিযুক্ত করেছেন। তাঁর দাবি, এটি একটি “পূর্বপরিকল্পিত হামলা”। রহিমের কথায়, “মিছিল শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে আমাদের নারী কর্মীদের ওপর পাথর ছোড়া হয়েছে।” তিনি পুলিশি পদক্ষেপেরও সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, এসএফআই কর্মীদের ওপর অহেতুক বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য অবশ্য ভিন্ন। তাদের দাবি, বিক্ষোভকারীদের বারবার এলাকা ছেড়ে যেতে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তারা কর্ণপাত করেনি। সরকারি সম্পত্তি নষ্টের দায়ে ইতিমধ্যেই ১০ জন এসএফআই কর্মীকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং আরও ৪০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, মিছিলের সময় তাদের একটি গাড়ির সামনের কাঁচ ভেঙে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের জয়ের উচ্ছ্বাস যে এভাবে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেবে, তা ছিল অনভিপ্রেত। ক্যাম্পাসের শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন এখন কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy