উত্তরাখণ্ড ও অসমের পর বাংলা? সোমবার বিধানসভায় আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল!

পশ্চিমবঙ্গে কি এবার কার্যকর হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code)? এই প্রশ্ন এখন রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হতে পারে। সরকারিভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও, বিধানসভার অন্দরমহলের খবরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

কেন এই বিল নিয়ে এত চর্চা? কেন্দ্রীয় সরকারের ‘এক দেশ, এক আইন’ নীতির অনুসারী হয়ে ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ড ও অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হয়েছে। এখন সেই পথেই পশ্চিমবঙ্গ হাঁটতে চলেছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বর্তমানে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি বণ্টনের মতো ব্যক্তিগত বিষয়গুলো বিভিন্ন ধর্মের নিজস্ব আইনে পরিচালিত হয়। ইউসিসি বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে সেই ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে এবং সব ধর্মের নাগরিকদের জন্য একই আইন প্রযোজ্য হবে।

উত্তরাখণ্ড ও অসমের মডেল উত্তরাখণ্ডে ২০২৫ সালে ইউসিসি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে এর প্রভাব দেখা গেছে। সেখানে বহুগামিতা নিষিদ্ধকরণ, লিভ-ইন সম্পর্কের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা এবং লিঙ্গ-সমতা নিশ্চিত করার মতো যুগান্তকারী সব বিধান রাখা হয়েছে। অসমও একই পথে হেঁটে সম্প্রতি বিল পাশ করেছে। এখন পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই মডেলটিই অনুসরণ করতে চায় কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধন্দে রয়েছেন।

রাজ্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পশ্চিমবঙ্গের মতো বৈচিত্র্যময় জনতাত্ত্বিক কাঠামোয় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা কতটা চ্যালেঞ্জিং, তা নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। সমর্থকদের দাবি, এর মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত হবে। অন্যদিকে, বিরোধীদের আশঙ্কা, এই আইনের ফলে রাজ্যের সামাজিক ও ধর্মীয় কাঠামোয় বড় ধরণের প্রভাব পড়তে পারে। আগামী সোমবার বিধানসভায় এই বিল পেশ হলে তা রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন দেখার বিষয়, সরকারপক্ষের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় বিরোধীরা কী রণকৌশল নেয়।