উত্তরবঙ্গে দুর্গতদের পাশে মমতা! তাই দুর্গাপুর যাননি? শুভেন্দুর ক্ষোভের কড়া জবাব তৃণমূলের, সঙ্গে ‘ওড়িশা’ প্রসঙ্গ টেনে এনে কাকে বিঁধলেন কুণাল?

দুর্গাপুরের ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণ-কাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাক্ষাতের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও পর্যন্ত নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা না করায় শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পরই এবার কড়া জবাব দিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

শুভেন্দুকে ‘দলবদল’ খোঁচা:
কেন মুখ্যমন্ত্রী দুর্গাপুর যাননি, শুভেন্দু অধিকারীর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুণাল ঘোষ সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ককে। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কখন কোথায় যেতে হবে, সেটা শিখতে হবে না ওঁর কাছ থেকে। উনি আবার এগুলো বোঝেন ভালো। কখন তৃণমূলে থাকতে হবে, কখন কোথায় ডাক পড়লে বিজেপিতে যেতে হবে।” তৃণমূল মুখপাত্রের এই মন্তব্য যে শুভেন্দু অধিকারীর অতীত দলবদলের দিকে ইঙ্গিত করছে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনো সন্দেহ নেই।

মুখ্যমন্ত্রী এখন উত্তরবঙ্গে:
কুণাল ঘোষের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর আসল কাজ পুলিশ দিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করানো এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। তিনি জানান, “তা করা হচ্ছে। তার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওখানে যেতে হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন আছেন কোথায়, তিনি উত্তরবঙ্গে দুর্গত মানুষের পাশে আছেন।” এর মাধ্যমেই তিনি বুঝিয়ে দেন যে, মুখ্যমন্ত্রী এই মুহূর্তে প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় দুর্গাপুর যেতে পারেননি।

‘সারা দেশে ঘটছে’ বলে পাল্টা যুক্তি:
যদিও দুর্গাপুরের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বাজে ঘটনা’ বলে মেনে নিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, “এই ধরনের ঘটনা সারা দেশে ঘটছে। শুধু বাংলায় ঘটছে, তা নয়।”

এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে তিনি মহিলা কমিশনকে নিশানা করেন এবং ওড়িশার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। কুণালের অভিযোগ, “মহিলা কমিশন তো বেছে বেছে যায়। ওড়িশায় তো পরপর ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। পুরীর সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ধর্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” এর মাধ্যমে তিনি কার্যত বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নারী সুরক্ষার প্রশ্ন তুলে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের পর দুর্গাপুরের ঘটনা নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও একধাপ বাড়লো বলেই মনে করা হচ্ছে।