উত্তরবঙ্গের ভাগ্যে জোড়া ধামাকা! এবার এইমস, আইআইটি ও আইআইএম গড়ার পথে প্রশাসন

উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামো ও শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল শিলিগুড়িতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে। রাজ্যে পালাবদলের আবহে উত্তরবঙ্গকে জাতীয় স্তরের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মানচিত্রে তুলে ধরতে এবার এইমস (AIIMS), আইআইটি (IIT) ও আইআইএম (IIM)-এর মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার তোড়জোড় শুরু করল প্রশাসন।

বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত: শিলিগুড়িতে আয়োজিত ‘জেলা উন্নয়ন সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ কমিটি’ তথা ‘দিশা’-র প্রথম বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং জেলার এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, সাংসদ রাজু বিস্তা-সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

কোথায় মিলবে জায়গা? রাজ্যের পরিবহণ ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন জানান, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ একর জমির প্রয়োজন। এই বিশাল পরিমাণ জমির সংস্থানের জন্য মূলত মাটিগাড়া ও নকশালবাড়ি এলাকার রুগ্ন বা বন্ধ চা বাগান এবং সরকারি খাস জমি চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। বাগডোগরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের কাজও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে, তাই বিমান যোগাযোগের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই বিমানবন্দরের কাছাকাছি এই প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরির প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য উদ্যোগ:

  • ক্যানসার হাসপাতাল: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে একটি উন্নত ক্যানসার হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

  • জমির পাট্টা সমস্যা: এদিন দিশার বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি, অর্থাৎ জমির পাট্টা না পাওয়ার সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • দুর্যোগ মোকাবিলা: আসন্ন বর্ষায় পাহাড় ও সমতলের বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি এবং সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নে এই প্রশাসনিক তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আগামী দিনে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবে রূপ পেলে গোটা অঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মানচিত্র আমূল বদলে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।