উজির মিঁয়ার গ্রেফতারিতেই উৎসব! থানার সামনে লাড্ডু বিলি বিজেপির, মাথাভাঙায় তীব্র চাঞ্চল্য

কোচবিহারের মাথাভাঙায় তৃণমূল কংগ্রেসের মাইনোরিটি সেলের সাধারণ সম্পাদক উজির মিঁয়ার গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে তৈরি হলো নাটকীয় পরিস্থিতি। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই আত্মগোপন করেছিলেন এই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ও পুলিশি অনুসন্ধানের পর অবশেষে মঙ্গলবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাথাভাঙা থানার পুলিশ তাঁকে পাকড়াও করে। এই গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাতারাতি থানার সামনে ভিড় জমায় বিজেপির নেতা-কর্মীরা।

তৃণমূল নেতার গ্রেফতারিতে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের কর্মীদের মধ্যে স্বস্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। মাথাভাঙা থানার সামনে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা একে অপরকে লাড্ডু খাইয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। দীর্ঘক্ষণ চলে স্লোগান ও উল্লাস। বিজেপির দাবি, উজির মিঁয়ার বিরুদ্ধে তোলাবাজি, জমি দখল, ভাঙচুর এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা রয়েছে।

বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য শেখর রায় এই গ্রেফতারিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের ‘হার্মাদ’ ও গুন্ডা হিসেবে পরিচিত উজির মিঁয়া পলাতক ছিল। আমাদের ওপর হওয়া অমানবিক অত্যাচারের কথা পুলিশকে বারবার জানিয়েছিলাম। অবশেষে ন্যায়বিচার শুরু হলো, তাই আমরা মিষ্টিমুখ করছি।” বিজেপির শহর মণ্ডলের নেত্রী অর্পিতা শীলের অভিযোগ, উজির মিঁয়ার ত্রাসে বহু মহিলা ঘরছাড়া ছিলেন, এমনকি মহিলা মোর্চার কর্মীদের বাড়িতে ভাঙচুর ও জিনিসপত্র লুঠের মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে এই তৃণমূল নেতা।

অন্যদিকে, বিজেপি মণ্ডল সম্পাদক মহাদেব বর্মন আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, “তৃণমূলের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে উজির মিঁয়া কোটি কোটি টাকা লুঠ করেছেন। বেআইনি নার্সিংহোম তৈরি থেকে শুরু করে স্ত্রীর নামে অবৈধ ওষুধের লাইসেন্স বের করা—সবই ছিল তাঁর নখদর্পণে। তিনি কার্যত একজন জমি মাফিয়ায় পরিণত হয়েছিলেন।”

এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা এ বিষয়ে পুরোপুরি নীরব রয়েছেন। বুধবার উজির মিঁয়াকে মাথাভাঙা মহকুমা আদালতে তোলা হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তের স্বার্থে তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে এবং মামলার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হবে। এখন দেখার, আদালতের নির্দেশের পর এই ঘটনায় রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।