অরণ্য সপ্তাহে সবুজায়নে রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রা রাজ্যের, কলকাতায় এক লক্ষ চারা রোপণের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

অরণ্য সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে সবুজায়নের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং শহরের হারানো সবুজ ফিরিয়ে আনতে এবছর রাজ্যে সাত লক্ষেরও বেশি বৃক্ষরোপণের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যপূরণে প্রতিটি পঞ্চায়েত এবং বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু কলকাতা কর্পোরেশনের ওপর দায়িত্ব পড়েছে এক লক্ষ চারাগাছ রোপণের। এই বিশেষ লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখেই মঙ্গলবার কলকাতার মোহরকুঞ্জ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা হলো।

এদিনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা কর্পোরেশনের প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এবং বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি, শঙ্কর সিকদার ও পূর্ণিমা চক্রবর্তীর মতো বিশিষ্টজনেরা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কর্পোরেশনের সচিব কিশোর কুমার বিশ্বাসসহ প্রতিটি বিভাগের ডিজি ও পদস্থ কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচির আদর্শকে সামনে রেখেই এদিন বৃক্ষরোপণ করা হয়। তবে গাছ লাগানোই শেষ কথা নয়, বরং তার বেঁচে থাকা নিশ্চিত করাই আসল চ্যালেঞ্জ—এই বার্তা দিয়ে প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে উপস্থিত আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, প্রতিটি গাছকে মাতৃস্নেহে আগামী তিন বছর পূর্ণাঙ্গ যত্ন নিতে হবে।

শহরের সবুজায়ন প্রসঙ্গে প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমাদের শহরে ১ লক্ষ গাছের চারা লাগানোর টার্গেট দিয়েছেন। বন দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে শহরের কোন এলাকায় কীভাবে চারা রোপণ করা হবে, তা দ্রুত ঠিক করা হচ্ছে।” নগরায়নের চাপে শহরের সবুজের আচ্ছাদন অনেকটাই কমেছে। এই বাস্তবতা স্বীকার করে নিয়ে প্রশাসক জানান, সবুজ ফেরানো রাতারাতি সম্ভব নয়। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং সেগুলিকে পরম মমতায় অন্তত তিন বছর পরিচর্যা করার মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত সবুজ পরিবেশ ফিরে পাওয়া সম্ভব।

উল্লেখ্য, মেট্রো প্রকল্পের কাজের জন্য ময়দান ও ভিক্টোরিয়া সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক হারে গাছ কাটা পড়েছে। সেই হারানো সবুজ ফিরিয়ে আনাই এখন কর্পোরেশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেনাবাহিনীর সাথে আলোচনার মাধ্যমে ময়দান চত্বরে নতুন করে সবুজায়ন করা হবে বলে খবর। পাশাপাশি, সৌন্দর্যায়নের নামে গাছের গোড়া সিমেন্ট দিয়ে বাঁধানোর মতো ক্ষতিকর প্রবণতা বন্ধ করতে এবং গাছের স্বাস্থ্য রক্ষায় জনসচেতনতামূলক প্রচার চালাবে কর্পোরেশন। শহরের বাস্তুতন্ত্রের কথা মাথায় রেখে খুব বেশি উঁচু হয় না, এমন প্রজাতির গাছই রোপণে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।