ই-২০ পেট্রল নিয়ে এনডিএ ভোটারদের মধ্যেই চরম ক্ষোভ! গাড়ির ইঞ্জিনের আয়ু নিয়ে আশঙ্কায় খোদ মোদী সমর্থকরা

পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর (E-20) যে महत्वाकांक्षी বা মেগা পরিকল্পনা কেন্দ্র সরকার গ্রহণ করেছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ ক্রমশ দানা বাঁধছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অসন্তোষ কেবল বিরোধী শিবিরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এনডিএ (NDA)-র ভোটারদের একটি বড় অংশের মধ্যেও এই নীতি নিয়ে তীব্র অনীহা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ‘সি-ভোটার’-এর একটি চাঞ্চল্যকর জনমত সমীক্ষা নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই জ্বালানি নীতিকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
সমীক্ষায় যা উঠে এসেছে:
সমীক্ষার পরিসংখ্যান বলছে, ৫২.৫ শতাংশ এনডিএ ভোটার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের গাড়িতে ই-২০ পেট্রল ব্যবহার করতে মোটেই আগ্রহী নন। এর বিপরীতে মাত্র ১৮.১ শতাংশ ভোটার এই জ্বালানি ব্যবহারে আগ্রহ দেখিয়েছেন। সামগ্রিক জনমতের দিকে তাকালে দেখা যায়, ৫২ শতাংশ মানুষ এই ইথানল মিশ্রণ নীতিকে সমর্থন করছেন না, যেখানে পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ২২ শতাংশ। এনডিএ ভোটারদের মধ্যে ৪৮.২ শতাংশ এই নীতির সরাসরি বিরোধিতা করেছেন, যা সরকারের জন্য যথেষ্ট চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই অসন্তোষ?
গাড়িচালকদের মূল অভিযোগ দুটি—মাইলেজ হ্রাস এবং ইঞ্জিনের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি। আখ ও ভুট্টা থেকে তৈরি এই জৈব জ্বালানি ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে খোদ কেন্দ্র সরকারও স্বীকার করেছে। অথচ কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রী নীতীন গড়করি বারবার দাবি করেছেন, ইথানল মিশ্রণের কারণে গাড়ির ক্ষতি হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু গ্রাহকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে অন্য কথা। অনেক চালকের অভিযোগ, ই-২০ পেট্রল ব্যবহারে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং যন্ত্রাংশ দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ:
সরকারের যুক্তি ছিল, ইথানল ব্যবহারের ফলে জ্বালানি তেলের আমদানি খরচ কমবে এবং সাধারণ মানুষ সস্তায় পেট্রল পাবেন। কিন্তু পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে সেই আশাভঙ্গ হয়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, ই-২০ পেট্রলের দাম যে সাধারণের তুলনায় কম হবেই, এমন কোনো গ্যারান্টি নেই। কারণ, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও, ইথানলের দাম কৃষকদের স্বার্থে নির্দিষ্ট থাকায় সাধারণ মানুষ এর থেকে বিশেষ আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এমনিতেই মোদী সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তার ওপর নিজস্ব ভোটারদের একাংশের এই অনীহা রাজনৈতিক মহলের সমীকরণ ওলটপালট করে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটি সারিয়ে তোলা এবং গ্রাহকদের আস্থায় নেওয়া ছাড়া এই মেগা পরিকল্পনা সফল করা কঠিন। এখন দেখার, কেন্দ্র সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কী নতুন কৌশল অবলম্বন করে।