ই২০ পেট্রোলে পকেট ফাঁকা! ক্ষুব্ধ কেজরিওয়াল শুরু করলেন দেশব্যাপী ‘স্টপ ই২০ পেট্রোল’ স্বাক্ষর অভিযান।

ই২০ পেট্রোলের ব্যবহার ও তার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে দেশজুড়ে বাড়ছে বিতর্ক। এবার এই ইস্যুকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বড়সড় আন্দোলনের পথে নামলেন আম আদমি পার্টির (এএপি) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সম্প্রতি ঘোষিত পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করে আজ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলেন ‘স্টপ ই২০ পেট্রোল’ অনলাইন স্বাক্ষর অভিযান। কেজরিওয়াল দেশবাসীর উদ্দেশে জানিয়েছেন, মানুষ যাতে সহজেই তাদের প্রতিবাদ সরকারি দরবারে পৌঁছাতে পারে, তার জন্য StopE20petrol.com ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়েছে। এখানে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো একটি আবেদনে স্বাক্ষর করে তাদের মতামত ও ক্ষোভ নথিভুক্ত করতে পারবেন।
কেজরিওয়ালের অভিযোগ, কোনো রকম পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও গবেষণামূলক আলোচনা ছাড়াই মোদী সরকার দেশে ই২০ পেট্রোল চাপিয়ে দিচ্ছে। অথচ সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে শুরু করে লক্ষ লক্ষ গাড়ির মালিক—সকলেই এই পেট্রোলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। গাড়ি চালকদের অভিযোগ, ই২০ ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর পাশাপাশি ফুয়েল পাম্প, ইনজেক্টর এবং ইঞ্জিনের জটিল সমস্যাও দেখা দিচ্ছে, যা গাড়ি সারাইয়ের খরচকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। কেজরিওয়ালের মতে, গণতন্ত্রে জনগণের সুবিধা-অসুবিধা শোনা সরকারের পরম দায়িত্ব, কিন্তু মোদী সরকার জনগণের উদ্বেগকে কার্যত উড়িয়ে দিচ্ছে।
এএপি-র দাবি, সরকার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না রেখেই ই২০ পেট্রোল গছিয়ে দিতে চাইছে। কেজরিওয়ালের বক্তব্য, পেট্রোল পাম্পে বিশুদ্ধ পেট্রোল, ই১০ এবং ই২০—এই তিনটি বিকল্পই থাকা উচিত, যাতে গ্রাহকরা তাঁদের গাড়ির ইঞ্জিনের সামর্থ্য অনুযায়ী জ্বালানি বেছে নিতে পারেন। সরকার সেই সাধারণ অধিকারটুকুও কেড়ে নিচ্ছে। তিনি আরও জানান, ই২০ পেট্রোলের শক্তির দক্ষতা কম হওয়ার কারণে জ্বালানি খরচ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাচ্ছে, অথচ দাম কমানোর কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে সাধারণ মানুষের পকেটে এটি দ্বিমুখী আঘাতের মতো কাজ করছে— একদিকে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে জ্বালানি বাবদ বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ও সার্ভিস স্টেশনে পরিদর্শনের সময় কেজরিওয়াল স্বয়ং গাড়ি মালিকদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শুনেছেন। মাইলেজ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ইঞ্জিনের আয়ু কমে যাওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেজরিওয়াল সরকারের কাছে স্পষ্ট দাবি তুলেছেন: যদি সরকার ই২০ চালু রাখতেই চায়, তবে বিশুদ্ধ পেট্রোলের জোগান অব্যাহত রাখতে হবে এবং ই২০-এর দাম সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় অনেক বেশি সস্তা করতে হবে। তিনি সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণের কণ্ঠস্বর দমন করা যায় না।
আজকের এই স্বাক্ষর অভিযানের মাধ্যমে কেজরিওয়াল সারা দেশের মানুষকে এক ছাতার নিচে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, StopE20petrol.com-এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বাক্ষর সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং শেষ পর্যন্ত সরকার জনগণের দাবি মানতে বাধ্য হবে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের এই অভিযান রাজনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে, কারণ এটি সরাসরি সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের সঙ্গে সম্পর্কিত। সরকার শেষ পর্যন্ত এই দাবির মুখে নতিস্বীকার করে জ্বালানি নীতিতে কোনো বদল আনে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।