ইশা-মৌসমের সামনেই তুলকালাম! মালদায় পার্টি অফিস দখল নিয়ে কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ

সাংসদ ইশা খান চৌধুরী এবং প্রাক্তন সাংসদ মৌসম নুরের উপস্থিতিতেই মালদার চাঁচলে কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার রাতে তরলতলা এলাকায় দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের জেরে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
কী ঘটেছিল শনিবার? অভিযোগ, গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই চাঁচলের এই পার্টি অফিসটি বেদখল হয়ে ছিল। বহিষ্কৃত কংগ্রেস নেতা আনজারুল হক এবং তাঁর অনুগামীরা অফিসটি দখল করে রেখেছেন বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ। শনিবার বিকালে একটি কর্মিসভা শেষ করে ইশা খান চৌধুরী এবং মৌসম নুর যখন সেই পার্টি অফিসে পৌঁছান, তখন ভিতরে ছিলেন আনজারুল হকের অনুগামীরা। সাংসদ ও প্রাক্তন সাংসদকে পার্টি অফিসে ঢুকতে দেখা মাত্রই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এরপরই শুরু হয় হাতাহাতি ও মারপিট। বাঁশ ও লাঠি হাতে দুই গোষ্ঠীর কর্মী-সমর্থকদের একে অপরের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
কেন এই দ্বন্দ্ব? সূত্রের খবর, গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থিপদ পাওয়া নিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক আসিফ মেহবুব এবং আনজারুল হকের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। আসিফ মেহবুব দলের টিকিট পেলেও, আনজারুল হক ক্ষুব্ধ হয়ে নির্দল হিসেবে লড়াই করেন। সেই ঘটনার পরেই আনজারুল হককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর থেকেই পার্টি অফিসের দখল ও কর্তৃত্ব নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঠান্ডা লড়াই চলছিল, যা শনিবার রাতে চরম আকার ধারণ করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ: সংঘর্ষের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। তাদের হস্তক্ষেপে দীর্ঘক্ষণ পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রকাশ্য জনসমক্ষে এবং শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে দলীয় কার্যালয় দখল নিয়ে এমন মারপিট কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও একবার জনসমক্ষে নিয়ে এল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।