ইরানের ওপর কি পরমাণু হামলা করবে আমেরিকা? ট্রাম্পের এক বার্তায় তোলপাড় বিশ্ব;

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনালেও আপাতত ‘পরমাণু হামলার’ আশঙ্কা উড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান-আমেরিকা সংঘাত যখন চরমে, তখন বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া আশঙ্কার মাঝেই হোয়াইট হাউস থেকে অভয়বাণী শোনালেন তিনি। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের কোনও যৌক্তিকতা নেই।

কেন পরমাণু হামলা নয়? ট্রাম্পের যুক্তি

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, আমেরিকার প্রচলিত সামরিক হামলাই (Conventional Attack) ইরানকে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাঁর কথায়, “আমি কেন পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করব? আমাদের সাধারণ হামলাতেই ওদের নৌবাহিনী সাগরের তলায় চলে গিয়েছে, বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়েছে। ওদের রাডার বা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র এমন এক জিনিস যা কারোরই কখনও ব্যবহার করা উচিত নয়। ট্রাম্পের এই নরম-গরম অবস্থানে আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

সমুদ্রে ঘেরাও: ভারত মহাসাগরে মার্কিন রণতরী

কূটনৈতিকভাবে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির কথা বললেও সামরিক দিক থেকে চাপ কমাচ্ছে না ওয়াশিংটন। বর্তমানে ওই অঞ্চলে আমেরিকার শক্তির মহড়া চোখে পড়ার মতো:

  • ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ: এই শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরীটি বর্তমানে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে।

  • ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন: এটি মোতায়েন রয়েছে আরব সাগরে

  • ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড: লোহিত সাগরে নজরদারি চালাচ্ছে এই জাহাজটি।

একই সাথে তিনটি বিশাল রণতরী মোতায়েন করে ইরানকে কার্যত চারদিক থেকে ঘিরে ফেলার কৌশল নিয়েছে আমেরিকা।

দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির লক্ষ্য

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি তেহরানের সঙ্গে তড়িঘড়ি কোনও চুক্তিতে যেতে চান না। বরং একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটতে আগ্রহী। যদিও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান হয়তো নিজেদের শক্তি কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে, তবে মার্কিন প্রযুক্তির সামনে তা টিকবে না বলেই তাঁর বিশ্বাস।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy