২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এবার সরাসরি সংঘাতের পথে ইন্ডি জোটের দুই শরিক কংগ্রেস ও তৃণমূল। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘মেরুকরণের’ রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন। রাহুলের দাবি, তৃণমূলের এই রাজনীতির জন্যই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জমি শক্ত করার সুযোগ পেয়েছে। এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
রাহুলের নিশানায় তৃণমূল:
রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের হয়ে প্রচার করতে গিয়ে বলেন, “মমতা জি যদি স্বচ্ছ সরকার চালাতেন এবং মেরুকরণ না করতেন, তবে বিজেপির বঙ্গে ঢোকার কোনো পথই থাকত না।” তিনি আরও দাবি করেন, একমাত্র কংগ্রেসই পারে বিজেপিকে রুখে দিতে। তবে রাহুলের এই মন্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “রাহুল গান্ধী একদিকে বলছেন কংগ্রেস জিতবে, আবার বলছেন তৃণমূলের জন্য বিজেপি জিতবে! উনি নিজেই কি পুরোপুরি বিভ্রান্ত নন?”
অমিত শাহের বড় ভবিষ্যদ্বাণী:
একদিকে যখন বিরোধীদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে, তখন প্রথম দফার ভোটের পর আত্মবিশ্বাসী বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা অনুযায়ী প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১০টির বেশি আসন জিতবে বিজেপি। শাহের মতে, ৯০ শতাংশের বেশি রেকর্ড ভোটদান প্রমাণ করছে মানুষ এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘উন্নয়ন’ বেছে নিয়ে মমতাকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রেকর্ড ভোট ও পরবর্তী দফা:
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় রাজ্যে ৯১.৮৩ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ এবং আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণা। এখন দেখার, রাহুলের এই সরাসরি আক্রমণ তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে চিড় ধরায় কি না, নাকি বিজেপির জয়গানই সত্যি হয়।





