ইয়েমেনে ফের যুদ্ধের দামামা! সৌদি হানায় রণক্ষেত্র সানা বিমানবন্দর, বড় বিপদের মুখে যুদ্ধবিরতি?

ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ল। ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অভিযোগ, সৌদি যুদ্ধবিমান তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে সানার রানওয়েতে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার জেরে সৌদি আরব ও হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত একটি ইরানি বিমানকে ঘিরে। হুতিদের দাবি, ওই বিমানে তাদের একটি প্রতিনিধিদল তেহরান থেকে সানায় ফিরছিল। ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইরান থেকে আসা ওই বিমানটিকে বাধা দিতেই সৌদি জোট সানার রানওয়েতে হামলা চালায়। ইয়েমেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল তাহের আল-আকিলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কোনোভাবেই শত্রুপক্ষকে ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে দেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। এই নৃশংস হামলার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে।”

সৌদি জোটের পক্ষ থেকে সরাসরি হামলার কথা স্বীকার না করা হলেও, তাদের দাবি ইয়েমেনের নিরাপত্তার স্বার্থেই তারা কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে। অন্যদিকে, হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এই হামলাকে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, সৌদি আরব এই আগ্রাসন চালিয়ে যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়িয়ে দিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সানার বিমানবন্দরে হামলার একটি ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়েছে, যেখানে ধোঁয়া এবং ধ্বংসের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হুতিদের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয় যে, আক্রান্ত বিমানটি সানা বিমানবন্দরে নামতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত হোদেইদা বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। মাঝেমধ্যেই যুদ্ধবিরতির কথা উঠলেও শান্তি প্রক্রিয়া বারবার ব্যাহত হয়েছে। এবারের এই বিমান হামলার ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি হুতিরা তাদের হুমকির অনুযায়ী সামরিক প্রত্যুত্তর দেয়, তবে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। সৌদি আরব এবং হুতি বিদ্রোহীদের এই নতুন সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আবারও টালমাটাল করে তুলল। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক মহল এই সংকট নিরসনে কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।