ইভিএম কি সত্যিই নিরাপদ? স্ট্রং রুমের ভেতর থেকে ভাঙচুরের আওয়াজ! ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড় রাজ্য

বাংলার হাইভোল্টেজ নির্বাচন পর্ব মিটতেই এখন সব উত্তেজনা গিয়ে থিতু হয়েছে স্ট্রং রুমের দরজায়। কিন্তু ফলপ্রকাশের আগেই পূর্ব বর্ধমান থেকে বারাসাত—রাজ্যের একাধিক জায়গায় ইভিএমের নিরাপত্তা ঘিরে উঠল চাঞ্চল্যকর সব অভিযোগ। সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো থাকা থেকে শুরু করে স্ট্রং রুমের ভেতরে ভাঙচুরের শব্দ পাওয়া—বিজেপি ও তৃণমূল, দুই যুযুধান পক্ষই এখন কমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

বর্ধমানে ‘ষড়যন্ত্রের’ গন্ধ: বিজেপি প্রার্থীর বিস্ফোরক দাবি
পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে সরাসরি ‘প্রহসনের’ অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, কমিশনের গাইডলাইন মেনে স্ট্রং রুমের প্রবেশপথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকার কথা, বাস্তবে সেখানে কেবল হাতেগোনা কয়েকজন রাজ্য পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সঞ্জয় দাসের অভিযোগ আরও গুরুতর যখন তিনি জানান, স্ট্রং রুমের ভেতর ও বাইরের অধিকাংশ সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “ইচ্ছাকৃতভাবেই কি এই নজরদারি বন্ধ রাখা হয়েছে?” সবথেকে বেশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে, যেখানে দাবি করা হয়েছে, রাতের অন্ধকারে বিল্ডিংয়ের ছাদে একদল মানুষের সন্দেহজনক ওঠানামা দেখা গিয়েছে এবং স্ট্রং রুমের ভেতর থেকে ভাঙচুরের শব্দও শোনা গিয়েছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি প্রশাসন।

বারাসাতে তুলকালাম: সিসিটিভি বিভ্রাটে ক্ষুব্ধ তৃণমূল
অন্যদিকে, বারাসাত গভর্মেন্ট কলেজের স্ট্রং রুম চত্বরেও শনিবার সকাল থেকে রণক্ষেত্রের চেহারা তৈরি হয়। সেখানে অভিযোগের সুর চড়ান অশোকনগরের তৃণমূল প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী। তাঁর দাবি, বেশ কিছু সময়ের জন্য স্ট্রং রুমের সিসিটিভি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। ক্ষুব্ধ প্রার্থী সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন, “আগামী দু’ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে তৃণমূল।” সিসিটিভি বন্ধের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিও জানান তিনি।

তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ আংশিক নস্যাৎ করে জানিয়েছে, টিভি মনিটর সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ছিল এবং রেকর্ডিং নিরবচ্ছিন্নভাবে চলেছে।

বিজেপি কর্মীদের ওপর বাধা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপ
বারাসাতের ঘটনায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে বিজেপি কর্মীরা অভিযোগ করেন যে, পাহারায় থাকা তাঁদের প্রতিনিধিদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গেটের সামনে চরম ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এসডিপিও আজিংকা অনন্ত বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

স্ট্রং রুম ঘিরে এই দ্বিমুখী রাজনৈতিক চাপানউতোর এখন চরম আকার ধারণ করেছে। একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অভাব, অন্যদিকে সিসিটিভি বিভ্রাট—ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে এই মুহূর্তে গোটা রাজ্য জুড়েই সন্দেহের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। এখন দেখার, কমিশন এই অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে বাড়তি কী পদক্ষেপ নেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy