ইবাদত করা কি অপরাধ?’— শ্রীনগরে ফের কাঁটাতারের বেড়া, হুরিয়ত নেতার বাড়িতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কেন রুখে দিল প্রশাসন?

জম্মু ও কাশ্মীরের হুরিয়ত নেতা মীরওয়াইজ উমর ফারুক অভিযোগ করেছেন যে, এই নিয়ে টানা তৃতীয় শুক্রবার তাঁকে ঐতিহাসিক জামা মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং তাঁকে গৃহবন্দি (নজরবন্দি) করে রাখা হয়েছে। এই অভিযোগ করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X (টুইটার)-এ একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে তাঁর বাড়ির বাইরে পুলিশ ভ্যান ও নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতির ছবিও দেখা যাচ্ছে।

মীরওয়াইজ তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “পুলিশ এইমাত্র জানাল যে, আজ আবার টানা তৃতীয় শুক্রবার আমাকে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে এবং জামা মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। যদি আইন আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে, তবে কোন আইন মৌলিক অধিকারের ওপর এমন হামলার অনুমতি দেয় এবং উপাসনাকে অপরাধে পরিণত করে?”

তিনি আরও বলেন, “সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে, শুক্রবার বা অন্য যেকোনো দিনে, কর্মকর্তারা নিজেদের ইচ্ছায় আমাকে আমার বাড়িতে আটকে রাখছেন, আমার স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছেন এবং আমাকে আমার ধর্মীয় কর্তব্য পালন করতে বাধা দিচ্ছেন। এই স্বৈরাচারী আচরণের জন্য তাদের কোনো জবাবদিহি নেই।” তিনি এই বারবার আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা এবং মানবাধিকারের প্রতি কর্তৃপক্ষের অবজ্ঞার তীব্র নিন্দা করেছেন।

মুত্তহিদা মজলিস-এ-উলেমা’র বৈঠক বাতিল, মীরওয়াইজের ক্ষোভ

এর আগের দিনও মীরওয়াইজ ওমর ফারুক নিজেকে কঠোর নজরবন্দি রাখার অভিযোগ করেন। তিনি জানান, তাঁর বাড়ির দিকে যাওয়া অলিতে কাঁটাতারের ব‍্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। তাঁর বাসভবনে মুত্তহিদা মজলিস-এ-উলেমা (MMU)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী রায়ের পর উদ্ভূত সমস্যা এবং কাশ্মীরে নষ্ট হয়ে যাওয়া মাংস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের সরবরাহ সহ অন্যান্য সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। মীরওয়াইজ বলেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলি হাস্যকর এবং যারা বারবার এগুলির আশ্রয় নেয়, তাদের দুর্বলতা ও নিরাপত্তাহীনতা প্রকাশ করে।