দিল্লি ‘বাবা’ চৈতন্যানন্দের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার বিস্ফোরক অভিযোগ, শকুনের মতো তাকাতেন ‘গুরুঠাকুর’

স্বঘোষিত ‘গুরুঠাকুর’ চৈতন্যানন্দ সরস্বতীর একের পর এক কুকীর্তি সামনে আসছে। ১৭ জন ছাত্রীকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে অভিযুক্ত এই ৬২ বছর বয়সী ‘স্বামীজি’ বর্তমানে পলাতক। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির বসন্তকুঞ্জে তিনি একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতেন।

২০১৬ সালে এক মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামী পার্থসারথি নামে পরিচিত চৈতন্যানন্দ ওই মহিলার দিকে ‘শকুনের মতো ছিঁড়ে খাওয়ার দৃষ্টিতে’ তাকাতেন।

অশ্লীল মেসেজ ও হেনস্তার অভিযোগ
অভিযোগকারিণীর দাবি, বাবা তাঁকে রাতবিরেতে অশ্লীল মেসেজ করতেন। সেই সময় ওই মহিলার বয়স ছিল ২০। তিনি শ্রী শারদা ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্টে মাত্র ৮ মাস পড়েছিলেন।

মেসেজ: চৈতন্যানন্দ নাকি তাঁকে অশ্লীল মেসেজ করতেন, যার কোনোটিতে লেখা থাকত ‘বেবি’ আবার কোনোটিতে ‘সুইট গার্ল’।

হেনস্তা: এফআইআর অনুসারে, সাড়ে ৬টায় ক্লাস শেষ হওয়ার পর তিনি ওই মহিলাকে তাঁর ঘরে ডেকে পাঠাতেন এবং নানাভাবে হেনস্তা করতেন।

অশালীন স্পর্শ: মহিলা জানান, উনি আমাকে সবসময় অশালীন স্পর্শ করার চেষ্টা করতেন।

দুবাই ও মথুরায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চৈতন্যানন্দ নিজেকে ‘প্রতিভাময়ী মেয়ে’ বলে ওই মহিলাকে দুবাইতে পড়ানোর জন্য নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন এবং সব খরচ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

চাপ: মহিলা না চাইলেও তাঁর সংস্থার কর্মীরা তাঁকে চাপ দিত।

বিচ্ছিন্নতা: বাবা তাঁর মোবাইল ফোন নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন এবং হস্টেলে তাঁকে জোর করে একা রেখে দেওয়া হয়েছিল। কারও সঙ্গে তাঁকে কথা বলতে দেওয়া হতো না।

প্রস্তাব: চৈতন্যানন্দ ওই মহিলাকে বড় হোটেলে ডিনারে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে তাঁর সঙ্গে রাতে থাকারও প্রস্তাব দিতেন।

পলাতক ‘বাবা’ ও পুলিশের তৎপরতা

মহিলা জানান, তিনি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। বাবা তাঁকে মথুরা যেতে বললেও তিনি যাননি। হস্টেলে সব কিছু ফেলে, কাউকে কিছু না জানিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। এরপরেও স্বামীজির ঘনিষ্ঠ ছাত্রীরা তাঁকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছিল, কিন্তু তাঁর বাবা তাদের তাড়িয়ে দেন।

পুলিশ রেকর্ড বলছে, বাবার বিরুদ্ধে ২০০৯ ও ২০১৬ সালে অভিযোগ উঠেছিল, কিন্তু তিনি প্রভাব ও ক্ষমতা প্রয়োগ করে আইনের নাগাল এড়িয়ে যান। এবারের অভিযোগের পর পুলিশ দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও রাজস্থানে তল্লাশি চালিয়েছে। তিনি যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, তার জন্য লুকআউট নোটিস জারি করা হয়েছে।