ইন্টারনেটে সার্চ করে খুনের ছক! কেতন হত্যাকাণ্ডে সিয়া ও চেতনের মাস্টারপ্ল্যান জানলে শিউরে উঠবেন

বাগদানের পর নভেম্বরেই ছিল বিয়ের সানাই বাজার কথা। ১৭ কোটির প্রাসাদ আর ব্যক্তিগত বিমানের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে তখন ব্যস্ত দুই পরিবার। কিন্তু সব স্বপ্নের সমাধি রচিত হলো এক ভয়াবহ খুনের পরিকল্পনায়। কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে সিয়া গোয়েল ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীর ঠান্ডা মাথার খুনি হওয়ার চাঞ্চল্যকর প্রমাণ। তদন্তকারীদের হাতে আসা নতুন তথ্য অনুযায়ী, এই পুরো খুনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছিল ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে।

তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, কেতনকে কীভাবে নিঃশব্দে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়, তার খুঁটিনাটি ইন্টারনেটে সার্চ করেছিলেন সিয়া ও চেতন। শুধু খুনের পদ্ধতি নয়, ধরা পড়লে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি কীভাবে হতে হবে এবং নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে কী কী অজুহাত সাজাতে হবে—সেই বিষয়েও তাঁরা ইন্টারনেট থেকে টিপস নিয়েছিলেন। এমনকি জিজ্ঞাসাবাদের মহড়াও চালিয়েছিলেন তাঁরা।

পুলিশের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, লোহগড় দুর্গকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল খুনের ঘটনাস্থল হিসেবে। চেতন ও সিয়া আগেভাগে ওই দুর্গে গিয়ে মহড়া দিয়েছিলেন—কোথায় দাঁড়াতে হবে, কীভাবে পেছন থেকে ধাক্কা দিতে হবে এবং কাজ শেষ করে কীভাবে চম্পট দিতে হবে। সন্দেহ এড়াতে ছদ্মবেশ ধারণের পরিকল্পনাও ছিল তাঁদের। ডিজিটাল প্রমাণের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে খুনের আগে ও পরে মোবাইল ফোনের সমস্ত চ্যাট ডিলিট করে দিয়েছিলেন তাঁরা। যদিও ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য ফোনগুলি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে, সেখান থেকে মুছে ফেলা তথ্য উদ্ধার হলে আরও বড় কোনো তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।

ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে ১৪ জুনের এক শিহরণ জাগানো ঘটনার কথা। ওইদিন সিয়া প্রথমবারের মতো কেতনকে দুর্গে নিয়ে গিয়ে খাদে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যজোরে কেতন বেঁচে যান। তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে সিয়া এমন অভিনয়ের আশ্রয় নেন যে কেতন তাঁর প্রেমের জালে পুনরায় আটকে যান। কিন্তু খুনিদের জিঘাংসা তাতে থামেনি। ১৮ জুন সিয়া ও তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী ফের কেতনকে দুর্গে নিয়ে যান এবং পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে দেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কেতনের। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, সিয়া ও চেতনের কাছে শুধু ‘প্ল্যান এ’ বা ‘প্ল্যান বি’ ছিল না, ব্যর্থতার আশঙ্কা মাথায় রেখে তাঁরা একটি ‘প্ল্যান সি’-ও তৈরি করে রেখেছিলেন।

এই ঘটনা এখন রাজস্থানের জয়পুর ছাড়িয়ে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সিয়ার দাদাকে ম্যারাথন জেরা করে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, এই পরিকল্পনায় আর কেউ জড়িত কি না। বিলাসিতা আর উচ্চাকাঙ্ক্ষার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এমন এক ক্রুর মনস্তত্ত্ব দেখে স্তম্ভিত অভিজ্ঞ তদন্তকারীরাও।