ইনজেকশন দেওয়ার পরই ছটফট করে মৃত্যু! বীরভূমে বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর পরিজনদের তুলকালাম কাণ্ড

বীরভূমের সিউড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ১৬ বছরের এক কিশোরের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও চরম অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত কিশোরের নাম মৈনাক দাস। পরিবারের লোকজনের স্পষ্ট অভিযোগ, নার্সিংহোমের চিকিৎসকদের চরম গাফিলতি এবং ভুল ইনজেকশন প্রয়োগ করার ফলেই কিশোরটির অকাল মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষুব্ধ আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা নার্সিংহোমে চড়াও হন এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালান বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পৌঁছায়।

মৃত কিশোরের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে মৈনাক দাসকে সিউড়ির ওই বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নার্স বা চিকিৎসকের দেওয়া একটি নির্দিষ্ট ইনজেকশন শরীরের প্রয়োগ করার ঠিক পরেই কিশোরটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে সে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং চিকিৎসকদের কোনো প্রচেষ্টা কাজে না লাগিয়ে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা। তাঁদের দাবি, সঠিক চিকিৎসার পরিবর্তে ভুল ওষুধ ও ইনজেকশন দেওয়ার ফলেই এই করুণ পরিণতি হয়েছে।

উত্তেজিত জনস্রোত নার্সিংহোমের ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়, যার ফলে হাসপাতালের আসবাবপত্র ও জানালার কাচ ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। খবর পেয়ে অবিলম্বে সিউড়ি থানার আইসি-র নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উত্তপ্ত পরিবেশ শান্ত করতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। পরবর্তীতে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিউড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তবে ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটল, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক কারণ স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে যে ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ রিপোর্ট হাতে আসার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে পুরো ঘটনাটির একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় গোটা সিউড়ি শহরজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।