ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ড. অনিল মেনন! পৌঁছে গেলেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী হিসেবে এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী থাকল গোটা বিশ্ব। মঙ্গলবার রাশিয়ার তৈরি ‘সয়ুজ এমএস ২৯’ (Soyuz MS 29) স্পেসক্রাফ্টে চেপে সফলভাবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) পৌঁছালেন ড. অনিল মেনন। কাজাখস্তানের বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে ১৪ জুলাই যাত্রার সূচনা করেছিলেন তিনি। ডকিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অনিল এখন মহাকাশ স্টেশনে তাঁর আট মাসের দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের জন্য প্রস্তুত।

৪৯ বছর বয়সী ড. অনিল মেনন কেবল একজন মহাকাশচারীই নন, তিনি পেশায় একজন দক্ষ ইমার্জেন্সি মেডিসিন ফিজিশিয়ান। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের রণক্ষেত্রে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের জীবন রক্ষায় তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাবা ভারতীয় এবং মা ইউক্রেনীয়—এই সংমিশ্রণে মিনিয়েপলিসে বেড়ে ওঠা অনিলের অদম্য মানসিকতা আজ তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে পৃথিবীর কক্ষপথে। ২০২১ সালে নাসা তাঁকে মহাকাশ অভিযানের জন্য নির্বাচিত করে এবং গত দুই বছর ধরে চলে কঠোর প্রশিক্ষণ।

এই যাত্রায় অনিল একা নন, তাঁর সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন আরও দুই মহাকাশচারী—পেত্র দোব্রভ এবং আনা কিকিনা। মহাকাশ স্টেশনে অবস্থানকালে অনিলের মূল দায়িত্ব হবে সেখানে কর্মরত অন্যান্য মহাকাশচারীদের শারীরিক সুস্থতার দিকটি পর্যবেক্ষণ করা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিশ্লেষণ করা। প্রযুক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের দায়িত্বও তাঁর কাঁধে।

অনিল মেননের এই অর্জন শুধু নাসার মুকুটে নতুন পালক নয়, বরং এটি ভারতের জন্যও এক গর্বের মুহূর্ত। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনিলের পরিবারে এটি প্রথমবার নয়। তাঁর স্ত্রী আন্না উইলিয়মও একজন মহাকাশচারী। ২০২৪ সালে স্পেসএক্স প্রাইভেট পোলারিস ডন মিশনের সদস্য হিসেবে তিনি মহাকাশে গিয়েছিলেন। অর্থাৎ, এই দম্পতি মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন।

অনিলের এই সফল ডকিংয়ের পর তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জার্ড ইসাকম্যান। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তোমাকে স্বাগত, অনিল। তোমার মিশনের যাত্রা সবে শুরু হলো। তোমার গবেষণা এবং অনুপ্রেরণা পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষকে স্বপ্ন দেখাবে।” মহাকাশের নিঃসীম শূন্যতায় আট মাস কাটানো অনিলের এই মিশন আগামী দিনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় সাফল্যের আশা জাগাচ্ছে। তাঁর এই কৃতিত্ব ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হবে।