‘শুভেন্দুর মতো সফল নেতা জীবনে দেখিনি’! দলবদল করেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক

বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফের একবার চাঞ্চল্যকর মোড়। ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ থেকে পদত্যাগ করে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এ যোগ দেওয়ার পরই প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মন্তব্যে তৈরি হলো নতুন রহস্য। দীর্ঘদিনের সতীর্থ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক দক্ষতা ও ব্যক্তিগত চরিত্রের অকুণ্ঠ প্রশংসা করলেন তিনি। এই ঘটনা বর্তমানে রাজ্যের শাসকদলের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিলেও, নতুন শিবিরে যোগ দিয়েই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কার্যত শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী আমাদের প্রজন্মের সেরা নেতা। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, এটা আমার কাছে গর্বের বিষয়। তাঁকে কাজ করার সময় দিতে হবে।” কেবল প্রশাসনিক দক্ষতার প্রশংসা নয়, শুভেন্দুর সাংগঠনিক শক্তির নিরিখেও তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় বসিয়েছেন প্রাক্তন এই মন্ত্রী। জ্যোতিপ্রিয় বলেন, “আমি একটি জেলার দায়িত্ব সামলাতেই হিমশিম খেয়েছিলাম, সেখানে শুভেন্দু পাঁচটি জেলা অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালনা করেছে। এত সফল নেতা আমি আমার জীবনে দেখিনি।”

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের এই মন্তব্যের নেপথ্যে থাকা পারিবারিক সম্পর্কের সমীকরণও উঠে এসেছে আলোচনায়। কাঁথির শান্তিকুঞ্জের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশির অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন নেই। তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারি, জামিন এবং পরবর্তীতে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়—এই নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তাঁর দলবদলের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

অন্যদিকে, বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলার তদন্ত ফাইল পুনরায় খোলার সরকারি সিদ্ধান্তের পরই জ্যোতিপ্রিয়র নাম জড়িয়ে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বরুণ বিশ্বাসের দিদি প্রমীলা রায় বিশ্বাস সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীর দিকে। যদিও এই গুরুতর অভিযোগ নিয়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি, তবুও মামলাটির আইনি জটিলতা তাঁর পিছু ছাড়ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্যোতিপ্রিয়র মতো একজন সিনিয়র নেতার মুখে বিরোধী দলনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া শুভেন্দু অধিকারীর এমন স্তুতি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত দেয়। ঘটনাটি নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়সহ দলের অন্যান্য নেতারাও। তবে জ্যোতিপ্রিয়র এই ‘বিদ্রোহী’ সুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় ধাক্কা কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা তুঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের এই নতুন রাজনৈতিক দৃশ্যপট ঠিক কোন পরিণতির দিকে এগোয়, এখন সেটাই দেখার।