“আসল তৃণমূল আমরাই”: এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে মমতা-অভিষেককে বড় চ্যালেঞ্জ সুদীপের!

দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান। দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে মহাবিস্ফোরণ ঘটিয়ে এনডিএ শিবিরের দিকে ঝুঁকলেন দলটির ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ। রবিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে দীর্ঘ বৈঠকের পর, এই সাংসদরা ত্রিপুরার আঞ্চলিক দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন’স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-এর সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার ঘোষণা করেছেন। শুধু তাই নয়, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানিয়ে চিঠিও দিয়েছেন তাঁরা।

“আসল তৃণমূল কারা, আদালত ঠিক করবে” রবিবার এই ঐতিহাসিক ভাঙনের পর বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় রীতিমতো সুর চড়িয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “আমরা এখন এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত। আইনি লড়াইয়ে এবার আদালত ঠিক করবে আসল তৃণমূল কংগ্রেস কারা।” দলত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি আরও দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য বেরিয়ে গেলে তারাই দলের প্রতীকের অধিকার দাবি করতে পারে। অর্থাৎ, তৃণমূলের নাম এবং প্রতীকের ওপর আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন সুদীপ।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল দল ছাড়ার নেপথ্যে দলীয় নেতৃত্বের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ ১৫ বছর লোকসভায় দলনেতা থাকার পর, কীভাবে একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিলেও, তাঁর দিকেই যে আঙুল তুলেছেন তা একপ্রকার স্পষ্ট। সুদীপ আক্ষেপ করে বলেন, “১০ বার ভোটে জয়ী হয়েছি, আমার স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ৫ বার জয়ী হয়েছেন। আমাদের পরিবারের ১৫ বারের জয় সত্ত্বেও দলের সম্মান রাখতে ব্যর্থ নেতৃত্ব।”

বিদ্রোহী দলে তারকারা এনসিপিআই-এর সঙ্গে মিশে যাওয়া এই ২০ জনের তালিকায় রয়েছেন দলের একঝাঁক হেভিওয়েট নেতা ও জনপ্রিয় তারকা। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, অভিনেতা দেব, ইউসুফ পাঠান, পার্থ ভৌমিক এবং প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা।

রাজনৈতিক সমীকরণ এই ২০ সাংসদের দলবদল লোকসভায় তৃণমূলের শক্তিকে অনেকটাই কমিয়ে দিল। এনডিএ শিবিরে এই সাংসদদের যোগদানের ফলে দিল্লিতে কেন্দ্রের শাসকজোটের শক্তি আরও বৃদ্ধি পেল। আসন্ন দিনগুলিতে তৃণমূলের অন্দরের এই গৃহযুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয় এবং আইনি লড়াইয়ে এই ২০ সাংসদ সফল হন কি না, সেদিকেই নজর এখন রাজনৈতিক মহলের।