‘আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত নয়’, মোদির আলোচনার পরই মাদানী-ওয়াইসির বিস্ফোরক মন্তব্যে ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক চরমে!

‘বন্দে মাতরম’-এর দেড়শো বছর পূর্তি উপলক্ষে সংসদে আলোচনার ঠিক পরেই এই জাতীয় মন্ত্র নিয়ে ফের চরম বিতর্ক সৃষ্টি করলেন জমিয়ত উলেমা-ই-হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানী এবং এআইএমআইএম সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। সোমবার লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই মন্ত্রের শক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং এটিকে ব্রিটিশদের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে আখ্যা দেন। এরপরই মাদানী ও ওয়াইসির মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ মাদানী তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘বন্দে মাতরম পাঠ বা গান করতে আমার আপত্তি নেই, তবে মুসলমানরা শুধুমাত্র এক আল্লাহর ইবাদত করে। ইবাদতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে না।’ তিনি মন্ত্রটির অনুবাদ ব্যাখ্যা করে দাবি করেন, এর চারটি ছত্রে দেশকে দেবী হিসেবে বিবেচনা করে দুর্গা মায়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে এবং ‘পুজো’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। মাদানী বলেন, ‘মা, আমি তোমার পুজো করি – এটাই বন্দে মাতরমের অর্থ।’ তাঁর মতে, এটি মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী, তাই কাউকে কারও বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোনও শ্লোগান বা গান গাইতে বাধ্য করা যায় না। তিনি ভারতীয় সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতা (অনুচ্ছেদ ২৫) এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার (অনুচ্ছেদ ১৯) প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশকে ভালোবাসা এক বিষয়, আর তার পুজো করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

এদিকে, সংসদে এই বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে এআইএমআইএম সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসিও বিজেপিকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, ভারতে স্বাধীনতা এসেছে কারণ আমরা দেশ ও ধর্মকে এক করে দেখিনি। তিনি জোর জবরদস্তি করে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বাধ্য করার বিরোধিতা করে বলেন, ‘এটি সংবিধানের পরিপন্থী।’ বিজেপিকে কটাক্ষ করে ওয়াইসি প্রশ্ন তোলেন, “যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেয়নি, আজ তারা দেশপ্রেমের কথা বলছে। দেশপ্রেম দেখাতে হলে দারিদ্র্য দূর করতে হবে।” তিনি বলেন, “আমরা আমাদের মায়ের ইবাদত করি না, আমরা কোরআনেরও ইবাদত করি না এবং ইসলামে আল্লাহ ছাড়া কোনো খোদা নেই।”