ক্লান্তির আসল কারণ জানেন কি? কিডনির ক্ষতি হলে শরীরে যে মারাত্মক সঙ্কেত দেখা দেয়

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোর পরেও যদি আপনার শরীরে সবসময় চরম ক্লান্তি এবং অলসতা বজায় থাকে, তবে তা সাধারণ কোনো ক্লান্তি বলে এড়িয়ে যাবেন না। এটি আপনার শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনির মারাত্মক সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের কিডনি রক্ত পরিশোধন করে শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ এবং অতিরিক্ত তরল বের করে দিতে সাহায্য করে। কিন্তু যখন কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে শুরু করে বা কিডনি রোগ বাসা বাঁধে, তখন রক্তে টক্সিন বা ক্ষতিকারক উপাদানের মাত্রা মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে শরীরের কোষে কোষে অক্সিজেনের সঠিক সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং রোগী তীব্র ক্লান্তি, দুর্বলতা ও শারীরিক অবসাদে ভুগে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত অনুসারে, ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা সিকেডির প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীরা প্রায়শই অতিরিক্ত অবসাদ এবং এনার্জির অভাব অনুভব করেন। রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া কিডনি রোগের একটি অত্যন্ত সাধারণ উপসর্গ। সুস্থ কিডনি ‘এরিথ্রোপয়েটিন’ নামক এক ধরনের হরমোন তৈরি করে, যা লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে শরীরকে সাহায্য করে। কিন্তু কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই হরমোনের উৎপাদন কমে যায়, যার ফলে শরীরে রক্তাল্পতা দেখা দেয় এবং সারাক্ষণ শরীর ক্লান্ত বোধ হয়। এর পাশাপাশি ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, বিশেষ করে রাতে ঘুম ভাঙা, চোখে ও পায়ে ফোভাব ভাব এবং ত্বকে মারাত্মক চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা করা একেবারেই উচিত নয়। নিজের এবং পরিবারের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এই লক্ষণগুলি দেখা মাত্রই দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান।