ওজন কমাতে দিনে কাপের পর কাপ গ্রিন টি খাচ্ছেন? জেনে নিন এর আসল সত্যিটা!

ওজন কমানো এবং মেদ ঝরানোর ডায়েট বলতেই সবার প্রথমে যে নাম মাথায় আসে, তা হলো গ্রিন টি। অনেকেই মনে করেন যে সারাদিনে যত বেশি পরিমাণে গ্রিন টি পান করা যাবে, শরীরের অতিরিক্ত চর্বি তত দ্রুত গলে যাবে। এই ধারণার বশবর্তী হয়ে অনেক স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ দিনে ৫ থেকে ৬ কাপ বা তারও বেশি গ্রিন টি পান করে থাকেন। কিন্তু পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয় এবং গ্রিন টি-র ক্ষেত্রেও এই কথাটি একশো শতাংশ সত্যি। প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রিন টি পান করার ফলে ওজন তো কমে না-ই, বরং শরীরের ভেতরে নানা জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই আপনার শরীরে এই জনপ্রিয় পানীয়টি আদৌ কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে কি না, তা সঠিকভাবে জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

গ্রিন টি-তে ক্যাটেচিন নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পরিমিত পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে, যা মেটাবলিজম বা বিপাক হার বাড়িয়ে ফ্যাট বার্ন করতে সাহায্য করে। তবে দিনে দুই থেকে তিন কাপ গ্রিন টি পান করা যেখানে স্বাস্থ্যসম্মত, সেখানে এর মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে শরীরে মারাত্মক ক্যাফেইনের ওভারলোড ঘটতে পারে। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা, বুক ধড়ফড় করা, তীব্র উদ্বেগ এবং স্নায়ুবিক দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের ঘুমের সমস্যা বা উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গ্রিন টি পানের অভ্যাস অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে।

এছাড়াও গ্রিন টি-র মধ্যে থাকা কিছু উপাদান শরীরের খনিজ শোষণ ক্ষমতাকে ব্যাহত করতে পারে। বিশেষ করে এটি শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করে, যার ফলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গিয়ে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রধান খাবারের ঠিক পরপরই গ্রিন টি পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। শুধু তাই নয়, খালি পেটে অতিরিক্ত গ্রিন টি পান করলে পেটে অ্যাসিড রিফ্লাক্স, বদহজম এবং গ্যাস্ট্রিকের তীব্র সমস্যা দেখা দিতে পারে। ওজন কমানোর প্রকৃত সুফল পেতে হলে সারাদিনে মাত্র দুই থেকে তিন কাপ গ্রিন টি পরিমিতভাবে এবং সঠিক সময়ে খাওয়া উচিত, সঙ্গে সুষম খাদ্য ও নিয়মিত শরীরচর্চাও সমানভাবে জরুরি।