আর পেট্রোল-ডিজেলের চিন্তা নেই! মারুতির এই নয়া মডেলে জ্বালানি খরচ নামবে এক ধাক্কায়

সাধারণ মানুষের যাতায়াতের খরচ এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। ভারতের অন্যতম বৃহত্তম গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা মারুতি সুজুকি (Maruti Suzuki) শীঘ্রই বাজারে আনতে চলেছে তাদের নতুন ইথানল-চালিত গাড়ি, যা পরিচিত হবে E100 মডেল হিসেবে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গডকরি এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে দিল্লিতে মারুতি সুজুকির এই বিশেষ গাড়ির বাণিজ্যিক লঞ্চ অনুষ্ঠিত হবে।

গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ইথানলের ব্যবহার এবং এতে পেট্রল-ডিজেলের মিশ্রণ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা ও চর্চা চলছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জ্বালানিতে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেশানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে মারুতির এই নতুন ভ্যারিয়েন্টটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি পেট্রল বা ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং পুরোপুরি ইথানলের (E100) মাধ্যমে চলবে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নীতিন গডকরি সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই প্রযুক্তির সাফল্যের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানি আমাদের পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। ভারতে ইতিমধ্যে বৈদ্যুতিক স্কুটার, গাড়ি, বাস, ট্রাক, এমনকি বৈদ্যুতিক ট্রাক্টরও চালু হয়েছে। আমি গত দেড় বছর ধরে যে গাড়িটি ব্যবহার করছি, তা পুরোপুরি বায়ো-ইথানলে চলে। যার প্রতি লিটারের দাম মাত্র ৬৫ টাকা। এটি জ্বালানি খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষাতেও বড় ভূমিকা পালন করছে।”

E100 জ্বালানি আসলে কী?
সহজ কথায়, E100 জ্বালানির অর্থ হলো গাড়িটি শতভাগ ইথানল দিয়ে চলবে। এখানে পেট্রল বা ডিজেলের কোনো ব্যবহারই থাকবে না। তবে সাধারণ গাড়িগুলিতে সরাসরি এই জ্বালানি ব্যবহার করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইথানলের দাম যেমন কম, তেমনই এতে দূষণও অনেক কম হয়। তবে ইথানল-চালিত গাড়ির ইঞ্জিন সাধারণ পেট্রল ইঞ্জিনের চেয়ে আলাদাভাবে ডিজাইন করা প্রয়োজন। সঠিক ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া সাধারণ গাড়িতে এই জ্বালানি ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

মারুতির এই উদ্যোগ ভারতের অটোমোবাইল সেক্টরে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। একদিকে যখন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে, তখন ৬৫ টাকা লিটারের ইথানল-চালিত গাড়ি সাধারণ মধ্যবিত্তের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও সাশ্রয়ী করে তুলবে। একই সঙ্গে ভারতের জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশ দূষণ রোধে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। ৫ জুন মারুতি সুজুকি ঠিক কোন মডেল এবং কী মূল্যে এই গাড়ি বাজারে আনে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy