আর কতদিন চুক্তিভিত্তিক পুনর্বহাল? চাকরির সুযোগ বাড়াতে মাস্টারস্ট্রোক মুখ্যসচিবের

রাজ্যের সরকারি দফতরে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এবার কড়া পদক্ষেপ করল নবান্ন। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আধিকারিক বা কর্মীদের মেয়াদ শেষ হওয়া কিংবা অবসর গ্রহণের পরও তাঁদের নতুন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হয়। এর ফলে সরাসরি নতুনদের চাকরির সুযোগ এবং বিভাগীয় পদোন্নতি মার খায়। এই প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করতে বুধবার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া সার্কুলার জারি করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল।

কী রয়েছে মুখ্যসচিবের নতুন নির্দেশিকায়?

নবান্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নতুন নির্দেশিকায় বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে:

  • আগে থেকেই নিতে হবে প্রস্তুতি: কোনো কর্মীর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া বা অবসরের অন্তত তিন মাস আগে সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধানকে নতুন বিকল্প কর্মী খুঁজতে হবে বা নতুন এজেন্সি নির্বাচন করতে হবে।

  • মাসিক তালিকা জমা বাধ্যতামূলক: কোন কোন পদে শূন্যপদ তৈরি হতে চলেছে, তার একটি তালিকা প্রতি মাসে অর্থ দফতর এবং কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরে পাঠাতে হবে।

  • অনুমোদন ছাড়া রুটিন এক্সটেনশন বন্ধ: বহু ক্ষেত্রে অর্থ দফতরের অনুমোদন ছাড়াই রুটিনমাফিক চুক্তি বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এখন থেকে সেই নিয়মবহির্ভূত প্রবণতা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

  • ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি: শুধুমাত্র জনস্বার্থের খাতিরে বা উপযুক্ত বিকল্প না পাওয়া গেলে তবেই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে পুনর্নিয়োগের কথা ভাবা যেতে পারে। তবে এর জন্য অর্থ দফতরের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক।

গাফিলতি দেখলেই কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

নবান্ন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, অর্থ দফতরের অনুমোদন ছাড়া কোনও ধরনের চুক্তি বৃদ্ধি বা শূন্যপদ পূরণে দীর্ঘসূত্রিতা সহ্য করা হবে না। এই ধরনের ঘটনা ঘটলে তাকে গুরুতর প্রশাসনিক গাফিলতি হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে নতুন প্রজন্মের কর্মীরা আরও বেশি করে নিয়োগের সুযোগ পাবেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।