আর্তনাদের বদলা নিতে মোদীর মেগা প্ল্যান! ১০০ জঙ্গি খতমের সেই রোমহর্ষক কাহিনি জানলে বুক শিউরে উঠবে

২২ এপ্রিল ২০২৫। কাশ্মীরের মনোরম বৈসরন উপত্যকা হঠাৎই বদলে গিয়েছিল এক মৃত্যুপুরীতে। পাকিস্তান থেকে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে আসা লস্কর ও জইশ জঙ্গিরা পর্যটকদের নাম জিজ্ঞেস করে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল। সেই নৃশংস হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন নিরীহ মানুষ। কিন্তু ভারত যে আর ‘পুরানো ভারত’ নেই, তা প্রমাণ করতেই শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের পরিবারের যন্ত্রণা, বিশেষ করে বিধবা হওয়া নারীদের সিঁথির সিঁদুরের অপমানের বদলা নিতেই এই অভিযানের নামকরণ করা হয়েছিল।

রাফালের গর্জন ও নিখুঁত নিশান:
ভারতের এই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং বিধ্বংসী। ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া স্ক্যাল্প মিসাইল এবং হ্যামার বোমার আঘাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি বড় জঙ্গি ঘাঁটি ধূলিস্মাৎ হয়ে যায়। সেনাসূত্র অনুযায়ী, মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে এই দুঃসাহসিক অপারেশন সম্পন্ন করে নিরাপদে ফিরে আসে ভারতীয় বাহিনী। এই অভিযানে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদিনের ১০০-র বেশি প্রশিক্ষিত জঙ্গি নিহত হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, পাকিস্তানের গর্বের চিনা-নির্মিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারতের রাফালকে টেরও পায়নি।

পাকিস্তানের পাল্টা হামলা ও ভারতের প্রতিরোধ:
ভারতের এই অভিযানের পর পাকিস্তান মরিয়া হয়ে ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ শুরু করে। জম্মুর শম্ভু মন্দির, পুঞ্চের গুরুদ্বার এবং কনভেন্ট স্কুলগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় তারা। কিন্তু ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। জল-স্থল-আকাশ, তিন বাহিনীর অভূতপূর্ব সমন্বয় বিশ্বজুড়ে ভারতের সামরিক শক্তির জয়গান গায়।

কূটনৈতিক ও রণকৌশলগত অবস্থান:
৭ মে প্রথম সরকারি ব্রিফিংয়ে বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি স্পষ্ট করেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ছিল ‘লক্ষ্যভিত্তিক ও নিয়ন্ত্রিত’। ভারত কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চায় না, কিন্তু সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোকে ভারত যে বিন্দুমাত্র রেয়াত করবে না, তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিদেশ সফরে থাকলেও প্রতি মুহূর্তে এই অপারেশনের তদারকি করেন। তাঁর নেতৃত্বেই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতের মতো কঠিন কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ১২ মে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অপারেশন সিঁদুর ভারতের জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের অঙ্গীকারের প্রতীক।”

আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের এই সাহসী পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে। আমেরিকা থেকে ইউরোপ—বহু দেশ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের এই স্বতঃস্ফূর্ত আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন জানায়। অপারেশন সিঁদুর আজ কেবল একটি সামরিক জয় নয়, বরং এটি ভারতের কৌশলগত সংযম এবং আপসহীন জাতীয় নিরাপত্তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।