“আমি রাজি নই!” হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ নিয়ে তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, ঘনিয়ে আসছে যুদ্ধের মেঘ?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক দাবার বোর্ডে নতুন করে চাল দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, যতক্ষণ না পরমাণু চুক্তির জট পুরোপুরি কাটছে, ততক্ষণ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ তুলবে না আমেরিকা। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কেন এই অনড় অবস্থান ট্রাম্পের? ইরান এবং পশ্চিমি দেশগুলোর মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপড়েন চলছে। ট্রাম্পের দাবি, ইরান গোপনে তাদের পরমাণু ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করছে, যা বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকি। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক কড়া বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “আমি কোনওমতেই এই চুক্তির ফাঁকফোকর মেনে নিতে রাজি নই। পরমাণু অস্ত্র নিয়ে স্বচ্ছতা না এলে তেহরানের ওপর থেকে কোনো চাপ কমানো হবে না।”

হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব: বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-তৃতীয়াংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই জলপথে অবরোধ জারি থাকার অর্থ হলো— বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যাওয়া। ট্রাম্পের এই ‘অবরোধ না তোলা’র বার্তায় ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক তেল বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।

তেহরানের প্রতিক্রিয়া: ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই বার্তাকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তেহরানের দাবি, তারা শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিতে বিশ্বাসী এবং আমেরিকার এই জবরদস্তিমূলক নীতি তারা মুখ বুজে সহ্য করবে না।

ভবিষ্যৎ কী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ বা চরম চাপের নীতি ইরানকে কোণঠাসা করার একটি কৌশল। তবে এর ফলে পারস্য উপসাগরে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একদিকে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা প্রতিরোধের হুমকি— সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক কূটনীতি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy