আবুজমাড়ের জঙ্গলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত ৫-৬ মাওবাদী

ছত্তীসগড়ের দান্তেওয়াড়া-নারায়ণপুর সীমান্তে আবারও নিরাপত্তা বাহিনী ও মাওবাদীদের মধ্যে ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। এই সংঘর্ষে কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয়জন মাওবাদী নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘন জঙ্গলের কারণে এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে এবং পুলিশের ধারণা, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কী ঘটেছে?
শুক্রবার সকালে দান্তেওয়াড়া ও নারায়ণপুর জেলার জেলা রিজার্ভ গার্ড (DRG)-এর একটি যৌথ দল পূর্ব বস্তার ডিভিশনের ঘন অরণ্যে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। তখনই মাওবাদীরা অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা চালায়। জওয়ানরা পাল্টা গুলি চালালে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়।
দান্তেওয়াড়ার পুলিশ সুপার গৌরব রাই জানিয়েছেন, সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন মাওবাদী নিহত হয়েছে। জওয়ানরা বর্তমানে জঙ্গলের ভেতরে তল্লাশি চালাচ্ছে। এই অভিযানকে মাওবাদী দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শীর্ষ মাওবাদী নেতাদের নিধন
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গত বছরই ২০২৬ সালের ৩১শে মার্চের মধ্যে দেশকে সম্পূর্ণ নকশালমুক্ত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেন। এরপর থেকে ছত্তীসগড়, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র এবং তেলেঙ্গানা সীমান্ত অঞ্চলে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বহু শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১.৫ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষিত বাসাভা রাজু এবং ১ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষিত জয়ারাম-এর মতো নেতারাও রয়েছেন।
মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি আবুজমাড়
যেখানে এই সংঘর্ষ ঘটেছে, সেই আবুজমাড় প্রায় ৪,০০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত দুর্গম একটি এলাকা। এটি দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদীদের প্রধান আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। এখান থেকেই তারা সমগ্র মধ্যভারতের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। পুলিশ জানিয়েছে, আবুজমাড় পুরোপুরি মাওবাদী মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিহত মাওবাদীদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।