রাম মন্দিরে দানবাক্সে হাত! ১২ হাজারের কর্মীর ২৫ লাখের গাড়ি, জেরায় ভয়াবহ জালিয়াতি ফাঁস

রাম মন্দির চুরির ঘটনায় তদন্তের মোড় ঘোরানো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে জেল হেফাজতে থাকা অভিযুক্তদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, মন্দিরের অন্দরে তৈরি হয়েছিল এক সুসংগঠিত চুরির চক্র। মাত্র ১২ হাজার টাকা বেতন পাওয়া এক কর্মীর ২৫ লক্ষ টাকার গাড়ি কেনার বিষয়টি এখন গোটা ঘটনার অন্যতম বড় রহস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তদন্তকারীদের জেরার মুখে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে, তারা সিসিটিভি ক্যামেরার ‘ব্লাইন্ড স্পট’ বা কম দৃশ্যমান এলাকাগুলো সম্পর্কে আগে থেকেই ওয়াকিবহাল ছিল। চুরির পদ্ধতিটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। একজন অনুদানের টাকা তোলার সময় বাকিরা তাকে ঘিরে ধরে এমনভাবে আড়াল করে দাঁড়িয়ে থাকত, যাতে সিসিটিভি ক্যামেরা বা অন্য কর্মীদের নজর এড়িয়ে যাওয়া যায়। এরপর চুরি করা টাকা সরাসরি বের না করে মন্দির চত্বরের একটি নির্দিষ্ট শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা হতো, পরে সুযোগ বুঝে তা বাইরে নিয়ে আসা হতো।
মঙ্গলবার পুলিশ জেলা কারাগারে গিয়ে অভিযুক্তদের প্রায় দুই ঘণ্টা জেরা করে। বিশেষ করে অবিনাশ মিশ্রকে কেন্দ্র করে পুলিশ তদন্তের জাল বিস্তার করছে, কারণ উদ্ধার হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ তার কাছ থেকেই পাওয়া গিয়েছিল। জেরায় ট্রাস্টের অন্যতম কর্তা অনিল মিশ্রের নাম উঠে আসায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। পাশাপাশি, গণনাকক্ষের চাবি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভিযুক্তরা ব্যাঙ্কের কর্মীদের দিকে আঙুল তুললেও, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ তাদের ভূমিকা নিয়ে পাল্টা ব্যাখ্যা দিয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য তলব করেছে। মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় এবং অনিল মিশ্রের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। অনিল মিশ্রের নামে ২০ লক্ষ টাকার গাড়ির ঋণ নেওয়ার তথ্যটিও পুলিশ যাচাই করছে। এছাড়া অভিযুক্ত মনীশ যাদবসহ কয়েকজনের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের হদিস পেতে ব্যাঙ্কগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তদন্তকারীরা।
ব্যাঙ্ক অফ বরোদা স্পষ্ট জানিয়েছে, মন্দিরে নগদে জমা পড়া অনুদান গোনা বা সংরক্ষণে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। ফলে এই বিশাল অঙ্কের টাকা তছরুপের উৎস এবং চক্রের শিকড় ঠিক কোথায়, তা খুঁজে বের করাই এখন পুলিশের প্রধান চ্যালেঞ্জ। সিসিটিভি ফুটেজ, ডিউটি রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেনের নথি মিলিয়ে অভিযুক্তদের দাবিগুলো যাচাই করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।