‘আবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে!’-যাদবপুর কাণ্ডে হুঁশিয়ারি দিয়ে বার্তা দিলীপ ঘোষের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে। একপক্ষ যখন সরাসরি আক্রমণাত্মক হুশিয়ারি দিচ্ছে, তখন অন্যপক্ষ এই ঘটনা থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে।
গত বুধবার রাতের পর বৃহস্পতিবারও উত্তপ্ত ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। বিশাল পুলিশ মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও কলকাতা ৩২ ক্যাম্পাস চত্বরে ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধে। একদিকে বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন, অন্যদিকে গোলপার্কের দিক থেকে আসা অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি কর্মীরা চার নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা করেন। গেটের উপরে উঠে গেরুয়া পতাকা লাগানোর পাশাপাশি যাদবপুরের ঐতিহ্যের প্রতীক নন্দলাল বসুর হাতে তৈরি প্রায় আড়াই দশক পুরনো এমব্লেম ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে। যদিও এবিভিপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরেই দলের ভেতরে ও বাইরে মতপার্থক্যের ছবি স্পষ্ট হয়েছে। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্য বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানান, অতীতে যেমন সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হয়েছিল, তেমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই অশান্তি থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রেখে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে এবিভিপি তাদের দলীয় কোনো ছাত্র সংগঠন নয় এবং যাদবপুরের এই অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে দল কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না।
দুই নেতার এমন বিপরীতমুখী মন্তব্যের জেরে রাজনৈতিক মহলে এবং বাম শিবিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে ক্যাম্পাসের এই অশান্তি আগামী দিনে কোন মোড় নেয়।