একজনেই ৯টি! সিম কার্ডের নিয়মে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের, আজই জেনে নিন নতুন এই নিয়ম

চাইলেই এবার নিজের ইচ্ছেমতো যত খুশি সিম কার্ড তুলে নেওয়া আর সম্ভব নয়। দেশের সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সিম কার্ড কানেকশন দেওয়ার নিয়মে বড়সড় কড়াকড়ি শুরু করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ২৪ অগাস্ট থেকে সারা দেশজুড়ে কার্যকর হতে চলেছে এই নতুন নিয়ম। নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি এখন থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি সিম কার্ড নিজের নামে রাখতে পারবেন না। এই নিয়ম ভাঙলে পড়তে হতে পারে বড় ধরনের আইনি সমস্যায়।
কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নীতি অনুযায়ী, দেশের সাধারণ নাগরিকরা এখন থেকে সর্বোচ্চ ৯টি সিম কার্ড ইস্যু করতে পারবেন। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তির নামে এর বেশি অ্যাক্টিভ মোবাইল কানেকশন রাখা যাবে না। তবে সংবেদনশীল এলাকাগুলির ক্ষেত্রে এই সীমানা আরও কড়া রাখা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর, অসম এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে একজন মানুষ সর্বোচ্চ ৬টি পর্যন্ত সিম কার্ড তুলতে পারবেন। সাইবার অপরাধ এবং জালিয়াতি রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
সাইবার অপরাধীরা প্রায়শই সাধারণ মানুষের অজান্তে বা ভুয়া নথির সাহায্য নিয়ে তাঁদের নামে একাধিক সিম কার্ড তুলে অপরাধমূলক কাজ চালিয়ে যায়। অনেক সময় মানুষ ভুলেই যান যে তাঁদের নামে পুরনো কোনো সিম কার্ড চালু রয়েছে, যা পরবর্তীতে তাঁদের বড় বিপদে ফেলে দেয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর থেকে সিম কার্ড কিনতে গেলে বিক্রেতারা সবার প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে ইতিমধ্যেই কতগুলি সিম চালু রয়েছে, তা যাচাই করবেন। তারপরই নতুন কানেকশন দেওয়া হবে।
তাই এই নতুন নিয়ম চালুর আগেই প্রতিটি মানুষের উচিত নিজের নামে কতগুলি অ্যাক্টিভ সিম কার্ড রয়েছে তা যাচাই করে নেওয়া। এই কাজটি করার জন্য সরকারি পোর্টাল ‘সঞ্চার সাথী’ (Sanchar Saathi) ব্যবহার করতে হবে। এর জন্য প্রথমে সঞ্চার সাথী ওয়েবসাইট বা অফিশিয়াল অ্যাপে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে থাকা ‘নো মোবাইল কানেকশন ইন ইওর নেম’ অপশনটি বেছে নিতে হবে। এরপর নিজের চালু মোবাইল নম্বর এবং ক্যাপচা কোড দিলেই একটি ওটিপি (OTP) আসবে।
ওটিপি যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই স্ক্রিনে ভেসে উঠবে আপনার পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত অ্যাক্টিভ মোবাইল নম্বরের তালিকা। এই তালিকার মধ্যে যদি এমন কোনো নম্বর থাকে যা আপনি চেনেন না বা ব্যবহার করেন না, তবে সঙ্গে সঙ্গে পোর্টালেই তা রিপোর্ট করার ব্যবস্থা রয়েছে। নিজের নাম থেকে সেই ভুয়া নম্বর সরিয়ে ফেললে হ্যাকার বা অপরাধীদের পাতা ফাঁদ থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব হবে। সময় থাকতে এই বিষয়ে সতর্ক না হলে বড় ধরনের আইনি ঝামেলায় জড়াতে হতে পারে।