অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার অফিসে বুলডোজার চালানো নিয়ে বড় স্বস্তি! স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়াল হাইকোর্ট

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার অফিস ভাঙার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ অব্যাহত। এই মামলায় আমতলার অফিসে বুলডোজার চালানোর উপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে দিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। একই সঙ্গে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে। আদালতের এই অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও আগামী দিনে আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে জোরালো সওয়াল করেন। তিনি জানান, মামলাকারী ২০১৭ সালে ৫১০ নম্বর দাগের আমতলার ওই সম্পত্তি বৈধভাবে কিনেছিলেন। মতি মল্লিক নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে এই সম্পত্তি ক্রয়ের সময় স্থানীয় পঞ্চায়েতের সমস্ত নিয়ম ও অনুমতি মেনেই নির্মাণকাজ করা হয়েছিল। কিন্তু জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো রকম পূর্ব নোটিশ বা সতর্কতা জারি না করেই হঠাৎ বুলডোজার চালিয়ে অফিস ভাঙা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই যে অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে, তার জন্য আদালতে ক্ষতিপূরণেরও আবেদন জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, এই মামলার আইনি লড়াইয়ে পালটা যুক্তি তুলে ধরেছে রাজ্য সরকারও। রাজ্যের তরফে আদালতে আগেই জানানো হয়েছিল, এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রাথমিক অনুসন্ধান করে দেখেছেন, ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় অভিষেকের যে রাজনৈতিক কার্যালয় রয়েছে, তার বৈধ অনুমতি সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র নেই। সেই আইনি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে বুলডোজার চালানো হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ওই অফিস নির্মাণের জন্য কোনো ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

পাশাপাশি, এই জমির মালিকানা এবং দাগ নম্বর নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র আইনি বিতর্ক। সুশান্ত মণ্ডল নামক এক ব্যক্তির অভিযোগ ছিল, রাজ্যে পালাবদলের পর আমতলার ৫১৯ এবং ৫১২ দাগ নম্বরের জায়গা দখল করেই মূলত এই পার্টি অফিস গড়ে তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যের বক্তব্য অনুযায়ী, যে অংশে বুলডোজার চালানো হয়েছে তা ৫০৭ দাগ নম্বরের জমি এবং সেই জমির ওপর লিপস অ্যান্ড বাউন্সের কোনো বৈধ সম্পত্তি নেই। অথচ কোম্পানির দাবি, ৫০৭ দাগের জমিটি তারা ২০১৭ সালেই আইনসম্মতভাবে কিনেছিল। দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী দাবির প্রেক্ষিতে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকার আদালতে তাদের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পেশ করবে। সব মিলিয়ে, আইনি মারপ্যাঁচ আর রাজনৈতিক তরজার জেরে আমতলার এই অফিস বিতর্ক এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।